...
...
Next Story

Glenn Maxwell Retirement: ১৪ বছরের কেরিয়ারে ইতি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২০১৫ এবং ২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি। ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যও ছিলেন। তবে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর ২০১ রানের ইনিংস ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে দীর্ঘ দিন থেকে যাবে।

Published on: Nov 3, 2026, 07:38:20 IST
Advertisement

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর দেখা যাবে না অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে। দীর্ঘ ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ারে ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। সোমবার রাতে নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করেন ৩৮ বছরের এই ক্রিকেটার। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার হয়ে ৫০ ওভারের এবং চার দিনের ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না ম্যাক্সওয়েল। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। ফলে আইপিএল-সহ বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় তাঁকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২০১৫ এবং ২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ জিতেছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (REUTERS)
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২০১৫ এবং ২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ জিতেছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (REUTERS)

'দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড' পডকাস্টে নিজের অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানান ম্যাক্সওয়েল। তাঁর কথায়, এই সিদ্ধান্তের পিছনে কিছুটা আবেগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি যে এক দিন ঘটত, সেটাও তিনি জানতেন। শরীরের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এই অলরাউন্ডার। কেরিয়ারের শেষ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় ভাল ভাবে খেলতে চান তিনি। সেই কারণেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং ভিক্টোরিয়ার হয়ে দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত।

বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক

ম্যাক্সওয়েলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিসংখ্যানও যথেষ্ট উজ্জ্বল। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে ২৮৬টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। করেছেন ৭২২৬ রান। পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১৩৬টি উইকেট। সাতটি টেস্ট, ১৪৯টি এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং ১৩০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এক দিনের ক্রিকেটে তাঁর সংগ্রহ ৩৯৯০ রান। টি-টোয়েন্টিতে করেছেন ২৮৯৭ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পাঁচটি শতরান রয়েছে তাঁর। এই তালিকায় ভারতের রোহিত শর্মার সঙ্গে যুগ্ম ভাবে শীর্ষে রয়েছেন ম্যাক্সওয়েল।

মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ২৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক সময় ৯১ রানে সাত উইকেট হারিয়ে বসেছিল। সেখান থেকে কার্যত একার হাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ম্যাক্সওয়েল। ১২৮ বলে অপরাজিত ২০১ রান করেন তিনি। মারেন ২১টি চার এবং ১০টি ছক্কা। পেশির টানে বেশির ভাগ সময় দৌড়তে না পারলেও ব্যাট হাতে লড়াই চালিয়ে যান। অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে ২০২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন।

বিদায়ের আগে শেষ আক্ষেপ

২০২৫ সালের জুন মাসেই এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে ছিল তাঁর শেষ এক দিনের ম্যাচ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিরুদ্ধে শেষ বার অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে খেলেন তিনি। এরপর বাংলাদেশ সফরের টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পাননি। অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা নতুন ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার দিকে নজর দিচ্ছেন। আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসে দলে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও মনে করছেন ম্যাক্সওয়েল।

অবসরের আগে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলার আশা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই সুযোগ আর হচ্ছে না। তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেওয়ার অস্ট্রেলিয়া দলের পরিকল্পনাকে সম্মান জানিয়েছেন তিনি।

এখন তাঁর লক্ষ্য শরীরকে সুস্থ রেখে কেরিয়ারের বাকি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতাগুলিতে খেলা। সেপ্টেম্বরে ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে বেলফাস্ট উলভসের হয়ে খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। আগামী দিনেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁকে দেখা যাবে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অধ্যায় শেষ হলেও ক্রিকেটের মাঠ থেকে এখনই হারিয়ে যাচ্ছেন না 'দ্য বিগ শো'।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks