ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই মারা গিয়েছেন ইজরায়েল এবং আমেরিকার হামলায়। এই খবর সামনে আসতেই কাশ্মীরে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া। এই আবহে শ্রীনগরের লালচকে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন সাধারণ মানুষ। শ্রীনগরের মিছিলে ইরানের পতাকা এবং খামেনেইর ছবি নিয়ে হাঁটছেন শতাধিক সাধারণ মানুষ। তারা ইজরায়েল এবং আমেরিকা বিরোধী স্লোগান তুলছেন। তবে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন শান্তিপূর্ণ ভাবেই চলছে। ইরানেও বহু স্থানে খামেনেইর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ মানুষ মিছিল বের করেছে। ইরানে ৪০ দিনের শোকের ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে ইরানের বহু জায়গায় আবার খামেনেইর মৃত্যুতে উল্লাস করতেও দেখা গিয়েছে মানুষকে।

এদিকে খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে শোক বার্তা প্রকাশ করেছে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের শিয়া সমিতি। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি প্রধান মেহবুা মুফতি ইজরায়েল এবং আমেরিকার এই হামলা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এরই সঙ্গে তিনি বলেন, 'মুসলিম বিশ্বের একটি সরব কণ্ঠস্বর ইরান। কোনও মিসাইল ইরানের সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন করতে পারবে না।' এদিকে কাশ্মীরের প্রধান ইমাম মীরওয়াইজ উমর ফারুকও ইরানের ওপর হামলার প্রতিবাদ করেছেন।
এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানালেন জামাতে ইসলামি হিন্দের সভাপতি সৈয়দ সাদাতোল্লা হোসেইনি। সাদাতোল্লা বলেন, এই হামলার জেরে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা ইরানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছেন বিবৃতিতে জামাতের চেয়ারম্যান। এই হামলাকে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে বেপরোয়া পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। সাদাতোল্লা বলেন, এই পরিস্থিতিতে ভারতকে স্বাধীন ও নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি তাঁর বার্তা, এই সংঘাত যাতে বৃহত্তর যুদ্ধে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে।
সাদাতোল্লা বলেন, 'এই অঞ্চলটি ইতিমধ্যেই অস্থিতিশীলতা ও অনেক মানবিক দুর্দশার মুখোমুখি। এমনই এক সময়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ করা হল। এই হামলা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে। এরই সঙ্গে সাধারণ মানুষজনের দুর্ভোগের কারণ হবে। পরমাণু কর্মসূচি বা নিরাপত্তা নিয়ে দ্বন্দ্ব ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তবে এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল করে এবং শান্তি বজায় রাখার জন্য দায়ী বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্বকে ক্ষুণ্ণ করে।'
{{/usCountry}}সাদাতোল্লা বলেন, 'এই অঞ্চলটি ইতিমধ্যেই অস্থিতিশীলতা ও অনেক মানবিক দুর্দশার মুখোমুখি। এমনই এক সময়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ করা হল। এই হামলা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে। এরই সঙ্গে সাধারণ মানুষজনের দুর্ভোগের কারণ হবে। পরমাণু কর্মসূচি বা নিরাপত্তা নিয়ে দ্বন্দ্ব ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তবে এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল করে এবং শান্তি বজায় রাখার জন্য দায়ী বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্বকে ক্ষুণ্ণ করে।'
{{/usCountry}}