অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তানকে প্রকাশ্যে আজারবাইজান সমর্থন করেছিল। এখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের 'নতুন সূচনা' করতে চাইছে সেই আজারবাইজান। ভারত ও আজারবাইজান শুক্রবার বাকুতে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনায় বসেছিল। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই বৈঠককে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জ আজারবাইজান সফরে ছিলেন। তিনি 'ফরেন অফিস কনসালটেশন'-এর ষষ্ঠ দফার বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। গত কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম এই ধরনের বৈঠক।

অপারেশন সিঁদুরে আজারবাইজানের অবস্থান কী ছিল? ২০২৫ সালের এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পহেলগাঁওতে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। এরপরে ভারত মে মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখ অপারেশন সিঁদুর চালিয়েছিল। এই অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছিল। এই সামরিক অভিযানের সময় আজারবাইজান (ও তুরস্ক) প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল। আজারবাইজানের বিদেশ মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি জারি করে ভারতের পদক্ষেপের নিন্দা করেছিল। পাকিস্তানের সাথে সংহতি প্রকাশ করে 'সংযমের' আহ্বান জানিয়েছিল আজারবাইজান।
এরপরই ভারতের তরফ থেকে আজারবাইজানকে তীব্র ভাষায় জবাব দেওয়া হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে 'তুরস্ক-আজারবাইজান বয়কট' ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল ভারতে। আজারবাইজানে যাওয়া ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল এরপরে। সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনে আজারবাইজানের পূর্ণ সদস্যপদের বিরোধিতা করেছিল ভারত। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে চিড় ধরেছিল এর জেরে।
তবে আজারবাইজান এখন ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে। এই আবহে আজারবাইজানের বিদেশমন্ত্রী জেহুন বাইরামভ ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পর্যটন, ফার্মাসিউটিক্যালস, জ্বালানি, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয় বৈঠকে। দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য স্বীকার করে আজারবাইজান নিজেদের বিবৃতিতে বলেছে, নাগর্নো-কারাবাখ সংঘাতের সময় ভারত আর্মেনিয়াকে সমর্থন করেছিল বলে বিশ্বাস তাদের। তাই অপারেশন সিঁদুরে তারা ভারতের বিরোধিতা করেছিল। তবে বর্তমানে ভারতের সাথে সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}তবে আজারবাইজান এখন ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে। এই আবহে আজারবাইজানের বিদেশমন্ত্রী জেহুন বাইরামভ ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পর্যটন, ফার্মাসিউটিক্যালস, জ্বালানি, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয় বৈঠকে। দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য স্বীকার করে আজারবাইজান নিজেদের বিবৃতিতে বলেছে, নাগর্নো-কারাবাখ সংঘাতের সময় ভারত আর্মেনিয়াকে সমর্থন করেছিল বলে বিশ্বাস তাদের। তাই অপারেশন সিঁদুরে তারা ভারতের বিরোধিতা করেছিল। তবে বর্তমানে ভারতের সাথে সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}