...
...
Next Story

Balochistan Latest Update: বালোচিস্তানে ৮ দিনে ২২ হামলার দাবি বিএলএর, নিহত ২৬ পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তাকর্মী

বিএলএ-র দাবি, ৯ থেকে ১৫ অগস্ট—এই আট দিনে তারা মোট ২২টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও নিরাপত্তাবাহিনীর ২৬ সদস্য নিহত হয়েছেন। আরও কয়েক জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

Published on: Aug 19, 2026, 09:44:28 IST
Advertisement

পাকিস্তানের বালোচিস্তানে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি বা বিএলএ। সংগঠনটির দাবি, ৯ থেকে ১৫ অগস্ট—এই আট দিনে তারা মোট ২২টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও নিরাপত্তাবাহিনীর ২৬ সদস্য নিহত হয়েছেন। আরও কয়েক জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

বিএলএ-র দাবি, ৯ থেকে ১৫ অগস্ট—এই আট দিনে তারা মোট ২২টি হামলা চালিয়েছে। (AFP)
বিএলএ-র দাবি, ৯ থেকে ১৫ অগস্ট—এই আট দিনে তারা মোট ২২টি হামলা চালিয়েছে। (AFP)

দ্য বালোচিস্তান পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএলএর মুখপাত্র জিয়েন্দ বালোচ এক বিবৃতিতে ধারাবাহিক হামলাগুলির দায় স্বীকার করেছেন। সংগঠনটির দাবি, পাকিস্তানি সেনা ও পুলিশের পাশাপাশি সরকারপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী, নিরাপত্তা চৌকি, সামরিক যান, পরিকাঠামো এবং বাণিজ্যিক যানবাহনও তাদের হামলার নিশানায় ছিল।

বিএলএর দাবি অনুযায়ী, ৯ অগস্ট থেকেই অভিযান শুরু হয়। চাগাইয়ের নক চাহ এলাকায় কোয়েটা-তাফতান বাণিজ্যপথে তিনটি বাণিজ্যিক যান আটক করা হয় বলে দাবি সংগঠনটির। একই রাতে কোয়েটার কামব্রানি রোডে পুলিশের ‘ঈগল স্কোয়াড’-এর সদস্যদের আটক করে তাঁদের অস্ত্র ও সরঞ্জাম নিয়ে নেওয়ার দাবিও করা হয়েছে।

১০ অগস্ট খারানের জোমি এলাকায় কয়েক জন পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে বিএলএ। পরে বিস্ফোরক ব্যবহার করে একটি পুলিশ চৌকি ধ্বংস করার দাবি করা হয়। সতর্ক করার পর আটক পুলিশ সদস্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও সংগঠনটির দাবি।

পরের দিন, ১২ অগস্ট, চাগাইয়ের চেহতার পুলিশ স্টেশন বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করার দাবি করে বিএলএ। একই দিনে বারতাগজিতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর একটি যানবহরে হামলার কথাও জানানো হয়।

এই দিনই ইয়াকমাখ বাজারে তিনটি বাণিজ্যিক যানবাহনে হামলার দাবি ওঠে। দুটি যান অচল করে দেওয়া এবং একটি আটকের কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বড় হামলার দাবিও করা হয়েছে এই ১২ অগস্ট। বিএলএর বক্তব্য, কালাতের রোদেনজো এলাকায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর একটি বহরে হাতে তৈরি বিস্ফোরক দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ১৭ জন সামরিক সদস্য নিহত এবং আরও কয়েক জন আহত হন। দুটি সামরিক যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি।

সুরাবেও একই ধরনের হামলার দাবি করেছে সংগঠনটি। সেখানে একটি সামরিক যানে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে বিএলএর দাবি। ১৩ অগস্ট পাঞ্জগুরের চিতকানে পুলিশ লাইনে গ্রেনেড হামলার কথা জানিয়েছে বিএলএ। এতে এক জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন বলে দাবি। একই দিনে বুয়েদার গিল্লি এলাকায় নজরদারি ক্যামেরা ধ্বংস করা এবং একটি চার পাখার ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবিও করা হয়।

চাগাইয়ের তালু এলাকায় একটি বাণিজ্যিক গাড়িতে আগুন দেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি। নুশকির বাদাল কারেজ ক্রসে পাকিস্তানি সামরিক সদস্যদের ওপর হামলায় দু’জন নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে বিএলএ। ১৪ অগস্টও একাধিক হামলার দাবি করা হয়। তুরবাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর একটি বহরে বিস্ফোরক হামলায় একটি সামরিক যান ধ্বংস এবং তিন জন সামরিক সদস্য নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। আরও চার জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি।

একই দিনে কোয়েটার কৃষি কলোনির কাছে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে গ্রেনেড হামলা এবং নুশকির আহমাদওয়ালে একটি সামরিক ক্যাম্পে ভারী অস্ত্র দিয়ে হামলার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি। চাগাইয়ের বারতাগজিতে দুটি বাণিজ্যিক যান অচল করে দেওয়া এবং জোজকিতে বিস্ফোরণের মাধ্যমে একটি রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবিও উঠেছে।

১৫ অগস্ট সুরাবের মাল মাদরাসা এলাকায় দুটি সামরিক চৌকি এবং একটি সেতু বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করার দাবি করেছে বিএলএ। একই সঙ্গে পাঞ্জগুরের চেডগিতে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষের কথাও জানানো হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, পাকিস্তানি সেনারা এলাকায় অগ্রসর হওয়ার পর ১০ অগস্ট থেকেই সেখানে লড়াই শুরু হয়।

বিএলএর ধারাবাহিক দাবিতে একটি বিষয় স্পষ্ট। সংগঠনটি শুধু সামরিক বাহিনীকে নয়, পুলিশ, নিরাপত্তা স্থাপনা এবং যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামোকেও লক্ষ্য করছে। ফলে বালোচিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার সংখ্যা, নিহতের হিসাব এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন। কারণ, বিএলএর দাবিগুলি স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। পাকিস্তানি প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়াও এখনও সামনে আসেনি।

বালোচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই প্রদেশে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি, রাজনৈতিক অধিকার এবং সম্পদের বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছে বালোচ সংগঠনগুলি। বিএলএ সেই আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী। নতুন করে আট দিনে ২২টি হামলার এই দাবি তাই পরিস্থিতির গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এখন নজর থাকবে পাকিস্তানি সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এসব হামলার বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe