বালোচিস্তানে ফের বড় হামলার মুখে পড়ল পাকিস্তান সেনা। জিয়ারত এবং সুরাব এলাকায় দু’টি পৃথক হামলায় ২৫ জন পাক জওয়ান নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি বা বিএলএ। সংগঠনটি নিজেরাই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

বিএলএ-র মুখপাত্র জিয়ন্দ বালোচের দাবি, গত বৃহস্পতিবার সংগঠনের দু’টি পৃথক ইউনিট অভিযান চালায়। প্রথম হামলাটি হয় জিয়ারত ক্রস এলাকায়। সেখানে পাক সেনা জওয়ানদের নিয়ে যাওয়া একটি কনভয়কে নিশানা করা হয়।
বিএলএ জানিয়েছে, ‘ফতহ স্কোয়াড’-এর সদস্যরা এই হামলা চালান। কনভয়ের দু’টি গাড়িতে হামলা করা হয়। গুলি এবং বিস্ফোরণে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সংগঠনের দাবি, ওই হামলায় ১৮ জন পাকিস্তানি জওয়ান নিহত হয়েছেন।
এর পরেই আরও একটি হামলার দাবি করেছে বালোচ বিদ্রোহী সংগঠনটি। সুরাবের হাজিকা এলাকায় পাক সেনার আরও একটি কনভয়কে নিশানা করা হয়। বিএলএ-র ‘স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস স্কোয়াড’ বা এসটিওএস এই অভিযান চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিএলএ-র দাবি, ওই কনভয় বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলায় আরও সাত পাক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। ফলে দুই হামলা মিলিয়ে মোট ২৫ জন পাক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
হামলার পর বালোচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রদেশে দীর্ঘ দিন ধরেই পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন চালাচ্ছে একাধিক বালোচ সংগঠন। তার মধ্যে বিএলএ অন্যতম সক্রিয় গোষ্ঠী।
{{/usCountry}}হামলার পর বালোচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রদেশে দীর্ঘ দিন ধরেই পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন চালাচ্ছে একাধিক বালোচ সংগঠন। তার মধ্যে বিএলএ অন্যতম সক্রিয় গোষ্ঠী।
{{/usCountry}}বালোচ বিদ্রোহীদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের উপর পাকিস্তান দীর্ঘ দিন ধরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। স্থানীয় মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক সুবিধা যথেষ্ট নয় বলেও অভিযোগ তাদের। সেই ক্ষোভ থেকেই সশস্ত্র আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে বলে দাবি বিদ্রোহীদের।
পাকিস্তান সরকার অবশ্য বিএলএ-সহ বিভিন্ন বালোচ সশস্ত্র সংগঠনকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নিয়মিত সেনা অভিযান চালানো হয় বালোচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু তারপরেও হামলা পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি।
সাম্প্রতিক হামলার ক্ষেত্রে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও হতাহতের বিস্তারিত কোনও সরকারি তথ্য সামনে আসেনি। ফলে বিএলএ-র দাবি স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে হামলার ধরন নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, সেনা কনভয়কে লক্ষ্য করে সমন্বিত হামলা চালানো তুলনামূলক ভাবে বড় ধরনের সামরিক অভিযান বলেই মনে করা হচ্ছে। এক জায়গায় গুলি চালানোর পাশাপাশি অন্য জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কনভয় ধ্বংস করার দাবি করেছে বিএলএ।
বালোচিস্তানে সেনা এবং বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ নতুন নয়। কিন্তু একের পর এক কনভয়কে নিশানা করার ঘটনা পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সেনা চলাচলের পথে এমন হামলা হলে তা পাক প্রশাসনের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
এখন নজর পাকিস্তান সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বালোচিস্তানে আরও বড় সেনা অভিযান শুরু হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে। অন্য দিকে, বিএলএ-ও নতুন হামলার হুমকি দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফলে ফের অশান্ত বালোচিস্তান। আর জোড়া হামলায় পাক সেনার বড় ক্ষয়ক্ষতির দাবিতে নতুন করে সামনে এল বালোচ বিদ্রোহের ভয়ংকর চেহারা।