Bangladesh Air Force C130J in India: ঢাকার আকাশ থেকে দিল্লি। মাঝখানে কেটে গিয়েছে প্রায় দু’বছর। ২০২৪-এর ৫ অগস্ট, বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের হিন্দন বিমানঘাঁটিতে নেমেছিল বাংলাদেশের বায়ুসেনার C-130J। সেই ঘটনার পর এ বার ফের ভারতের মাটিতে পা রাখছে বাংলাদেশের একই ধরনের সামরিক পরিবহণ বিমান। তবে এ বার কোনও রাজনৈতিক সঙ্কট নয়, বরং আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়া—‘তরঙ্গ শক্তি ২০২৬’-এর অংশ হিসাবেই ভারতে আসছে বাংলাদেশের C-130J। উল্লেখ্য, এই কয়েক সপ্তাহ আগেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) শামসুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকা ক্যানটনমেন্টে বৈঠক করেছিলেন ঢআকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশন ত্রিবেদীশ। সেই বৈঠকে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। আর তারপর এবার ভারতে সামরিক মহড়ায় যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ।

ভারতীয় বায়ুসেনার আয়োজনে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত রাজস্থানের যোধপুরে বসতে চলেছে বহুজাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’। এই মহড়ায় এ বার সরাসরি অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের প্রথম সংস্করণে বাংলাদেশ ছিল পর্যবেক্ষক দেশ। দু’বছর পর অবস্থান বদলে এ বার নিজেদের C-130J বিমান নিয়ে মহড়ায় যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশের বায়ুসেনা।
শুধু বাংলাদেশ নয়, একাধিক দেশের যুদ্ধবিমান এবং সামরিক পরিবহণ বিমানও অংশ নেবে এই মহড়ায়। আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং শ্রীলঙ্কার মতো দেশও রয়েছে তালিকায়। পাশাপাশি আরও বহু দেশ পর্যবেক্ষক হিসাবে মহড়া দেখতে উপস্থিত থাকবে।
ভারতীয় বায়ুসেনার তরফেও বড় আকারে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাফাল, সুখোই-৩০ এমকেআই, মিরাজ-২০০০, মিগ-২৯, জাগুয়ার এবং তেজসের মতো যুদ্ধবিমান মহড়ায় অংশ নেবে। বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আমেরিকার এফ-৩৫ ও কেসি-১৩৫, ফ্রান্সের রাফাল, জার্মানির এ৪০০এম এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির এফ-১৬-ও দেখা যেতে পারে।
এই মহড়ার মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র যুদ্ধবিমানের শক্তি প্রদর্শন নয়। বিভিন্ন দেশের বায়ুসেনার মধ্যে যৌথ অভিযান, কৌশলগত সমন্বয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ফলে বাংলাদেশের C-130J-এর অংশগ্রহণও সামরিক স্তরে দুই দেশের বাহিনীর যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠছে।
{{/usCountry}}এই মহড়ার মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র যুদ্ধবিমানের শক্তি প্রদর্শন নয়। বিভিন্ন দেশের বায়ুসেনার মধ্যে যৌথ অভিযান, কৌশলগত সমন্বয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ফলে বাংলাদেশের C-130J-এর অংশগ্রহণও সামরিক স্তরে দুই দেশের বাহিনীর যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠছে।
{{/usCountry}}তবে বাংলাদেশের বিমানটির ভারত সফরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দুই বছর আগের একটি অত্যন্ত আলোচিত অধ্যায়। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে শেখ হাসিনা ঢাকা ছাড়ার পর বাংলাদেশের C-130J-তেই ভারতের উদ্দেশে রওনা হন। হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণের পর সেই যাত্রা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
দু’বছর পর সেই একই ধরনের C-130J আবার ভারতের মাটিতে। এ বার অবশ্য কোনও সরকার পতনের নাটক নেই, নেই সঙ্কটের ছায়াও। রয়েছে আকাশে সামরিক মহড়া, একাধিক দেশের বায়ুসেনার সমাবেশ এবং যৌথ প্রশিক্ষণের আয়োজন।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের আবহেও এই সফর তাই আলাদা তাৎপর্য তৈরি করেছে। এরই সঙ্গে বাংলাদেশের C-130J-এর প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে নজর কেড়েছে।
দু’বছর আগে যে বিমানটি এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছিল, সেই ধরনের বিমানই এ বার ফিরছে সম্পূর্ণ অন্য পরিচয়ে—আন্তর্জাতিক আকাশসীমার সামরিক সহযোগিতার অংশ হয়ে।