বাংলাদেশের সেনা প্রধান ওয়াকার উজ্জামান এদিন সেদেশের প্রতিরক্ষা ব্য়বস্থা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের 'ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১' এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সেদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামান। সেখানেই তিনি বাংলাদেশের সেনার প্রতিরক্ষা নিয়ে কথা বলেন।

সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামান বলেন, কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিমান বাহিনীর শক্তিশালী অবস্থান থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হত না বলেই মনে করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তারেক রহমানের আমলে আয়োজিত এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর বিদেশনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিই যুদ্ধ করার জন্য নয় বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য।
বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর আধুনিকীকরণের ওপরেও জোর দেন ওয়াকার উজ্জামান। তিনি বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এরপরই প্রতিবেশী দেশের সেনাপ্রধান আসেন বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের ইস্যুতে। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা এখন একটি বড় ইস্যু। স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছরেও দ্বিতীয় শোধনাগার গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান বলেন,'যেমন বাংলাদেশ নৌবাহিনী আমাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী। আমরা ব্যাপকভাবে আমদানি ও রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল এবং আমাদের সমুদ্রপথের যোগাযোগ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। নৌবাহিনীকে শক্তিশালী না করলে এই যোগাযোগ ব্যবস্থা সুরক্ষিত থাকবে না।' অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তাঁর সাফ বার্তা,'আপনারা কল্পনা করতে পারেন এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। নৌবাহিনীর সীমাবদ্ধতা রয়েছে; তাদের পর্যাপ্ত ওপিভি নেই, ফলে ছোট করভেট দিয়ে সাগরে টহল দিতে হচ্ছে যা অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী নয়। আমাদের সমুদ্রপথ এবং জাহাজগুলোর সুরক্ষায় নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।' এছাড়াও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ওয়াকার উজ্জামান বলেন,'একইভাবে বিমানবাহিনীর কথা যদি বলি, দীর্ঘ সময় ধরে আমরা মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ক্রয় করিনি। যদি কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম এলাকায় আমাদের পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থাকত, তবে হয়ত এই রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টিই হত না।'