...
...
Next Story

Bangladesh Awami League Update: আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলন অসম্ভব নয়, বড়া বার্তা তারেকের তথ্য উপদেষ্টা জাহেদের

তারেকের উপদেষ্টার বক্তব্য, দেশের একটা বড় অংশ এখনও আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক। ফলে তাঁদের সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব কমানোর উদ্যোগকে নীতিগত ভাবে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন না তিনি। তবে সেই প্রক্রিয়া শুরু করার আগে আওয়ামী লীগকে কিছু মৌলিক অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।

Published on: Oct 6, 2026, 13:50:16 IST
Advertisement

আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের দরজা কি ফের খুলতে পারে? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দেশের একটা বড় অংশ এখনও আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক। ফলে তাঁদের সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব কমানোর উদ্যোগকে নীতিগত ভাবে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন না তিনি। তবে সেই প্রক্রিয়া শুরু করার আগে আওয়ামী লীগকে কিছু মৌলিক অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।

তারেকের উপদেষ্টার বক্তব্য, দেশের একটা বড় অংশ এখনও আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। (REUTERS)
তারেকের উপদেষ্টার বক্তব্য, দেশের একটা বড় অংশ এখনও আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। (REUTERS)

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখার ভাবনা খারাপ নয়। বরং সঠিক শর্তে এমন উদ্যোগ হলে তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু শুধু বৈঠক বা কথাবার্তা শুরু করলেই পুনর্মিলনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে, এমনটা মনে করছেন না তিনি।

তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ‘ভিত্তি’ তৈরির প্রশ্নটি। তাঁর কথায়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ যারা নিতে চান, তাঁদের প্রথমে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে হবে। রাজনৈতিক সমঝোতার আগে সেই আলোচনার মূল ভিত্তি কী হবে, দুই পক্ষের অবস্থান কোথায় দাঁড়িয়ে আছে এবং কোন শর্তে আলোচনা এগোবে—তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

জাহেদের মতে, মাঝখান থেকে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি দুই পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধনের চেষ্টা করে, তা স্বাগত জানানো যায়। কিন্তু উদ্যোগটি সফল করতে হলে আওয়ামী লীগকেও নিজেদের অবস্থান নিয়ে পরিষ্কার বার্তা দিতে হবে। শুধু আলোচনায় বসা কিংবা আপসের কথা বললেই হবে না। পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়ের প্রশ্নও সামনে আসবে।

জাহেদের বক্তব্যে অবশ্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে স্থায়ী বিচ্ছেদের কোনও ঘোষণা নেই। বরং তাঁর কথায় ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে আলোচনার জায়গা তৈরি হতে পারে। কিন্তু সেই পথ যে সরল নয়, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মতভেদ দূর করতে শুধু আবেগ বা সাময়িক সমঝোতা নয়, প্রয়োজন পারস্পরিক আস্থা এবং গ্রহণযোগ্য কিছু মৌলিক শর্ত।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে ঘিরে বিতর্ক এখনও তীব্র। শেখ হাসিনার সরকারের সময়কার নানা সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক সংঘাত এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে তর্ক চলছে। সেই আবহে অন্তর্বর্তী সরকারের এক শীর্ষ উপদেষ্টার মুখে আওয়ামী সমর্থকদের সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনার কথা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তবে জাহেদের বক্তব্যের আর একটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সরাসরি বলেননি যে এখনই আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা হচ্ছে। বরং তাঁর বক্তব্যের সারকথা, আলোচনা অসম্ভব নয়, কিন্তু তার আগে আওয়ামী লীগকে নিজেদের দায়, অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট হতে হবে। অর্থাৎ ঢাকার রাজনীতিতে দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়, কিন্তু সেই দরজায় ঢোকার চাবি আপাতত আওয়ামী লীগের হাতেই—এমনই ইঙ্গিত মিলছে তাঁর মন্তব্যে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks