আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের দরজা কি ফের খুলতে পারে? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দেশের একটা বড় অংশ এখনও আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক। ফলে তাঁদের সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব কমানোর উদ্যোগকে নীতিগত ভাবে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন না তিনি। তবে সেই প্রক্রিয়া শুরু করার আগে আওয়ামী লীগকে কিছু মৌলিক অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখার ভাবনা খারাপ নয়। বরং সঠিক শর্তে এমন উদ্যোগ হলে তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু শুধু বৈঠক বা কথাবার্তা শুরু করলেই পুনর্মিলনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে, এমনটা মনে করছেন না তিনি।
তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ‘ভিত্তি’ তৈরির প্রশ্নটি। তাঁর কথায়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ যারা নিতে চান, তাঁদের প্রথমে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে হবে। রাজনৈতিক সমঝোতার আগে সেই আলোচনার মূল ভিত্তি কী হবে, দুই পক্ষের অবস্থান কোথায় দাঁড়িয়ে আছে এবং কোন শর্তে আলোচনা এগোবে—তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
জাহেদের মতে, মাঝখান থেকে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি দুই পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধনের চেষ্টা করে, তা স্বাগত জানানো যায়। কিন্তু উদ্যোগটি সফল করতে হলে আওয়ামী লীগকেও নিজেদের অবস্থান নিয়ে পরিষ্কার বার্তা দিতে হবে। শুধু আলোচনায় বসা কিংবা আপসের কথা বললেই হবে না। পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়ের প্রশ্নও সামনে আসবে।
এখানেই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগকেই প্রথমে এগিয়ে এসে নিজেদের দায় স্বীকার করতে হবে। সেই স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান না থাকলে পুনর্মিলনের আলোচনা বাস্তবে কতটা এগোবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে।
{{/usCountry}}এখানেই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগকেই প্রথমে এগিয়ে এসে নিজেদের দায় স্বীকার করতে হবে। সেই স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান না থাকলে পুনর্মিলনের আলোচনা বাস্তবে কতটা এগোবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে।
{{/usCountry}}জাহেদের বক্তব্যে অবশ্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে স্থায়ী বিচ্ছেদের কোনও ঘোষণা নেই। বরং তাঁর কথায় ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে আলোচনার জায়গা তৈরি হতে পারে। কিন্তু সেই পথ যে সরল নয়, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মতভেদ দূর করতে শুধু আবেগ বা সাময়িক সমঝোতা নয়, প্রয়োজন পারস্পরিক আস্থা এবং গ্রহণযোগ্য কিছু মৌলিক শর্ত।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে ঘিরে বিতর্ক এখনও তীব্র। শেখ হাসিনার সরকারের সময়কার নানা সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক সংঘাত এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে তর্ক চলছে। সেই আবহে অন্তর্বর্তী সরকারের এক শীর্ষ উপদেষ্টার মুখে আওয়ামী সমর্থকদের সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনার কথা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে জাহেদের বক্তব্যের আর একটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সরাসরি বলেননি যে এখনই আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা হচ্ছে। বরং তাঁর বক্তব্যের সারকথা, আলোচনা অসম্ভব নয়, কিন্তু তার আগে আওয়ামী লীগকে নিজেদের দায়, অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট হতে হবে। অর্থাৎ ঢাকার রাজনীতিতে দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়, কিন্তু সেই দরজায় ঢোকার চাবি আপাতত আওয়ামী লীগের হাতেই—এমনই ইঙ্গিত মিলছে তাঁর মন্তব্যে।