বাংলাদেশ ক্রিকেটে লেখা হল নতুন ইতিহাস। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বার টেস্ট জয়ের নজির গড়ল বাংলাদেশ। ডারউইনে আয়োজিত সিরিজের প্রথম টেস্টে প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ কখনও পায়নি বাংলাদেশ। ফলে ডারউইনের এই জয় নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকল।

চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৪২৬ রান তোলে। ওপেনার তানজিদ হাসান নিজের প্রথম টেস্ট শতরান করে দলের ভিত শক্ত করেন। তাঁর ১০১ রানের ইনিংসের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যাটারদের সম্মিলিত লড়াই অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণকে চাপে ফেলে দেয়।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বোলিংয়ের মূল নায়ক ছিলেন হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে তিনি অজিদের বড় রান করা থেকে আটকে দেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের বোলারদের এমন আগ্রাসী পারফরম্যান্সই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।
দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন দুর্দান্ত লড়াই করে শতরান করেন। তাঁর ১০৪ রানের ইনিংস অস্ট্রেলিয়াকে বিপদ থেকে কিছুটা উদ্ধার করে। কিন্তু বাংলাদেশের বোলাররা নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে নিতে থাকেন। বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে বড় ধাক্কা দেয়। পাঁচ উইকেট নিয়ে তিনি অজিদের দ্বিতীয় ইনিংস ২৮৪ রানে থামিয়ে দেন।
ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তে চাপ থাকার কথা থাকলেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা দেখান অসাধারণ পরিণত মানসিকতা। শুরুতেই তানজিদ হাসানকে হারালেও শাদমান ইসলাম এবং মুমিনুল হক দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ শেষ করেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ৫৭ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ৯ উইকেটের এই জয় শুধু দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশকে এগিয়েই দিল না, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের প্রথম টেস্ট জয়ও এনে দিল।
{{/usCountry}}ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তে চাপ থাকার কথা থাকলেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা দেখান অসাধারণ পরিণত মানসিকতা। শুরুতেই তানজিদ হাসানকে হারালেও শাদমান ইসলাম এবং মুমিনুল হক দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ শেষ করেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ৫৭ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ৯ উইকেটের এই জয় শুধু দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশকে এগিয়েই দিল না, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের প্রথম টেস্ট জয়ও এনে দিল।
{{/usCountry}}এই জয়ের তাৎপর্য আরও বেশি, কারণ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড মোটেই উজ্জ্বল ছিল না। এর আগে ২০০৩ সালে ডারউইনেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। প্রায় দুই দশক পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফিরে এসে সেই ডারউইনেই ইতিহাস তৈরি করল তারা।
অন্যদিকে, প্যাট কামিন্স, স্টিভ স্মিথ, মার্নাস লাবুশেন, ট্রাভিস হেডদের মতো তারকায় সাজানো অস্ট্রেলিয়া নিজেদের ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সামনে যেভাবে ব্যাটিংয়ে ভেঙে পড়ল, তা অজিদের জন্য বড় ধাক্কা। বাংলাদেশের বোলিং, ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই দেখা গিয়েছে অসাধারণ শৃঙ্খলা।
এই জয়ের ফলে সিরিজ এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। সামনে দ্বিতীয় টেস্ট। ডারউইনের ইতিহাসের পর এবার বাংলাদেশের লক্ষ্য আরও বড়—অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ জয়। প্রথম টেস্টে যে আত্মবিশ্বাস শান্তদের দল অর্জন করেছে, তা দ্বিতীয় ম্যাচেও ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশের ক্রিকেটে তৈরি হতে পারে আরও একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়।