বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি তথা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাংসদ সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজাদের হয়ে গলা ফাটালেন আরেক কিংবদন্তি তামিম ইকবাল। কয়েকদিন আগেই টি২০ বিশ্বকাপে খেলার পক্ষে সওয়াল করায় তামিমকে 'ভারতীয় দালাল' আখ্যা দিয়েছিলেন বিসিবির এক পরিচালক। এহেন তামিম এবার বললেন, 'আমি মনে করি না, সাকিব–মাশরাফি হত্যা করতে পারে। আমি সোজাসুজি এই কথা বলে দিচ্ছি।' উল্লেখ্য, এই দুই প্রাক্তন আওয়ামী সাংসদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের আছে। সাকিব তো ২০২৪ সালের অগস্ট তাণ্ডবের পরে দেশেই ফিরতে পারেননি। আর মাশরাফি দেশে থেকেও অন্তরালে। এদিকে সাকিব এবং তামিম একদা সতীর্থ হলেও দু'জনের সম্পর্ক মোটেও মধুর ছিল না। এই আবহে সাকিবের হয়ে তামিমের এই মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই ক্রিকেট মহল ক্রমেই সরব হয়েছে বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে। বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন নীতি এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন অনেকেই। এই আবহে বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসা বিএনপি ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে সাকিবকে ফেরানোর বিষয়ে। এদিকে বিসিবির তরফ থেকেও বলা হয়েছে, সাকিবকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করছে তারা। এবং সাকিবকে দলে ফেরানো নিয়ে বিসিবি প্রথম ঘোষণা করে যেদিন আনিষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ হয়ে যায়।
এই আবহে তামিমের কাছ থেকে সাকিব এবং মাশরাফিকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'তারা অন্য কোনও কিছুর সঙ্গে যুক্ত আছে কি না, সেটা আমি বলতে পারব না। এখানে তো অন্য কেসও আছে, সেটা আমি বলতে পারব না। তবে আমাকে যদি আপনি নির্দিষ্ট করে হত্যা বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন, সাকিব–মাশরাফি হত্যা করতে পারে, এটা আমি বিশ্বাস করি না।' এর আগে সাকিব আল হাসানকে বাংলাদেশ দলে না নেওয়ার জন্য বিসিবিকে 'নির্দেশ' দিয়েছিলেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। সেই আসিফ এখন এনসিপির মুখপাত্র। এই আবহে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে খেলার জন্য বাংলাদেশের বিমানে উঠেও শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে হয়েছিল সাকিবকে। তবে আগামী মার্চ মাসে সাকিব বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।