ঢাকার কাছেই সাভারের আশুলিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস পোশাক কারখানার কাছে এই আগুন লাগে। কর্তৃপক্ষের দাবি, কারখানার ভেতরে থাকা একটি লরির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গিয়েছে। তাঁর নাম জয়নাব বেগম। তিনি কারখানার পাশেই একটি কাপড়ের দোকান চালাতেন। বাকি ৬ জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডে কারখানার কর্মচারী এবং পথচারী-সহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় নারী ও শিশুস্বাস্থ্য হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁদের ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আগুন নেভানোর কাজ চলে। রাত পৌনে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন জানান, আগুন লাগার খবর পেয়েই তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁর মতে, সাভার ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়।
ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আব্দুস সালাম জানান, কারখানার বাইরে সিলিন্ডার ভর্তি লরিতে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে ওই লরির পাশ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে একজনের দেহ লরির ভিতরে ছিল। বাকি চারজনের দেহ লরির পাশে পাওয়া যায়।এরপর আরও একটি বিস্ফোরিত সিলিন্ডার পাশের একটি দোকানে গিয়ে পড়ে। এতে দোকানের মালিক জয়নাব বেগমের মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।
{{/usCountry}}ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আব্দুস সালাম জানান, কারখানার বাইরে সিলিন্ডার ভর্তি লরিতে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে ওই লরির পাশ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে একজনের দেহ লরির ভিতরে ছিল। বাকি চারজনের দেহ লরির পাশে পাওয়া যায়।এরপর আরও একটি বিস্ফোরিত সিলিন্ডার পাশের একটি দোকানে গিয়ে পড়ে। এতে দোকানের মালিক জয়নাব বেগমের মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।
{{/usCountry}}কারখানার অ্যাডমিন-ম্যানেজার হেমায়েত উদ্দিন বলেন, কারখানার সীমানা প্রাচীরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লরির সিলিন্ডার বিস্ফোরণেই আগুন লাগে। তবে কারখানার ভিতরে কোনও শ্রমিক আটকে ছিলেন না। আগুন লাগার আগেই শ্রমিকেরা বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে কাভার্ড ভ্যানের পাশে থাকা কয়েকজন আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শী রনি জানান, বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে বেশ কয়েকজন আহত হন। তিনি নিজে দুজন দগ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত এক শ্রমিককেও হাসপাতালে পাঠান। তাঁর দাবি, কারখানার পাশের রাস্তায় থাকা রিকশাচালক-সহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের জেরে লোহা ও যন্ত্রাংশের টুকরো ছিটকে আশপাশের বাড়িঘর ও রাস্তায় গিয়ে পড়ে। এতে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটে।
আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ জানান, তাঁদের হাসপাতালে এ পর্যন্ত ১৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কীভাবে সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।