বাংলাদেশে গতকাল সম্পন্ন হয়েছে সেদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার শেষযাত্রা। এদিকে, সামেনই মাস ঘুরলে বাংলাদেশে ভোটপর্ব আসতে চলেছে। শেখ হাসিনা সরকারের অভ্যুত্থান পর্বের পর এই প্রথম ভোটের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। আর সেদেশে সদ্যই ১৭ বছর পর পা রেখেছেন খালেদা জিয়ার পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভোটে রয়েছে তাঁর প্রার্থীপদও। সেই প্রার্থীপদের মনোনয়ের হলফনামা থেকেই উঠে এল তারেক রহমানের সম্পত্তির পরিমাণ।

ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। কিছুদিন আগেই সেই মনোনয়ন পত্র দাখিল হয়েছে। মনোনয়নে হলফনামায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের সম্পত্তির পরিমাণ। বহুকাল ধরে বাংলাদেশের বাইরে থাকা তারেক রহমানের বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ার ও ব্যাংকে রয়েছে আমানত। বাংলাদেশের মিডিয়ার রিপোর্ট অনুসারে, ব্যাঙ্কে জমা থাকা টাকা ও নগদের অঙ্ক বাংলাদেশের মুদ্রায় ৩১ লাখ ৫৮৪২৮ টাকা। শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৪ টাকা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে (তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত) বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৫ লাখ টাকা ও ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে এবং শেয়ারে রয়েছে ৫ লাখ টাকা। ‘ঢাকা পোস্ট’র রিপোর্ট বলছে, হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, সঞ্চয় পত্র ক্রিপ্টোকারেন্সিতে তারেকের বিনিয়োগ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ হাজার টাকা, এফডিআর-এ ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকা, অন্যান্য আমানতে ১ লাখ টাকা রয়েছে। ২ হাজার ৯৫০ টাকা মূল্যের সোনা ও দামি ধাতুর গয়না তাঁর সম্পত্তির অংশ। আসবাবপত্রের মূল্য ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা। সম্পত্তির অঙ্কে রয়েছে কৃষি ও অকৃষি জমি এবং আবাসিক ভবন। হলফনামা বলছে, ২.১ একর ও ১.৪ শতাংশ জমি, যার অর্জনকালীন মূল্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। ২.৯ শতাংশ জমির ওপর আবাসিক/বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে, তবে এটি উপহার হিসাবে তিনি পেয়েছেন বলে হলফনামায় রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর যৌথ মালিকানায় ৮০০ বর্গফুটের দোতলা ভবন রয়েছে, যার মূল্যও প্রকাশ্যে আসেনি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এককালে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল। তবে পেশ করা হলফনামায় তারেক জানিয়েছেন, অতীতের অসংখ্য মামলা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি আদালত থেকে খালাস হয়েছেন অথবা মামলাগুলো খারিজ হয়ে গিয়েছে।