...
...
Next Story

Bangladesh Electricity-Fuel Scarcity: গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে হাঁসফাঁস বাংলাদেশ, ভরসা এবার আদানি ও আমদানি করা জ্বালানিতে

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ নেমে এসেছে ২৩৭ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি। সোমবার থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৫৫ কোটি ঘনফুটে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। তাতেও চাহিদা ও জোগানের বিশাল ফারাক পুরোপুরি মিটবে না।

Published on: Sep 14, 2026, 10:38:06 IST
Advertisement

গ্যাসের ঘাটতি, একের পর এক কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয় এবং বাড়তে থাকা লোডশেডিং—জ্বালানি সংকট যেন ক্রমেই আরও গভীর হচ্ছে বাংলাদেশে। দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে গ্যাসের ঘাটতিতে শিল্প, বিদ্যুৎ, রান্না এবং পরিবহণ—সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হলেও, সেই গ্যাসও মূলত আমদানিনির্ভর। অর্থাৎ দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা কতটা বাইরে থেকে আসা সরবরাহের উপর নির্ভরশীল, তা ফের স্পষ্ট হয়ে গেল।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ নেমে এসেছে ২৩৭ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি। (REUTERS)
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ নেমে এসেছে ২৩৭ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি। (REUTERS)

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ নেমে এসেছে ২৩৭ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি। সোমবার থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৫৫ কোটি ঘনফুটে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। তাতেও চাহিদা ও জোগানের বিশাল ফারাক পুরোপুরি মিটবে না।

এই সংকটের অন্যতম কারণ এলএনজি আমদানিতে টানাপোড়েন। সাধারণত মাসে গড়ে ১০টি এলএনজি কার্গো আনা হলেও গত জুলাই-আগস্টে যেখানে ২১টি কার্গো এসেছিল, এবার এসেছে মাত্র ১৫টি। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে নির্ধারিত কয়েকটি কার্গো সময়মতো না আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সরবরাহেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে বেশি দামে খোলাবাজার থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

আন্তর্জাতিক বাজারেও দাম বেড়েছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে এশিয়ার স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে ২৮ ডলারেরও বেশি হয়েছে বলে বাংলাদেশের জ্বালানি বিভাগের তথ্য। ফলে আমদানিনির্ভর গ্যাস ব্যবস্থার উপর চাপ আরও বাড়ছে। সামনে শীতকালে ইউরোপের চাহিদা বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

কিন্তু সমস্যা সেখানেই শেষ নয়। বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও কারিগরি সমস্যায় বন্ধ হয়ে যায়। ১,৩২০ মেগাওয়াটের পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও বন্ধ। আরেকটি কেন্দ্রে কয়লার ঘাটতিতে উৎপাদন কম। সব মিলিয়ে একাধিক বড় কেন্দ্র তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ দিতে পারছে না।

ফলাফল—লোডশেডিং। শনিবার রাতে বাংলাদেশে লোডশেডিং ৩,০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। দিনের বেলাতেও তা ২,৫০০ মেগাওয়াটের বেশি ছিল। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ পরিষেবাও চাপে পড়েছে।

বাংলাদেশ সরকার অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩,৮০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা জানানো হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বরের পর তেলের সরবরাহ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে এই পুরো পরিস্থিতি একটি বড় প্রশ্ন সামনে আনছে—দেশের নিজস্ব গ্যাসের উৎপাদন যখন প্রায় এক দশক ধরে কমছে, তখন আমদানির উপর নির্ভরতা বাড়ানোই কি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান? গ্যাস, এলএনজি, কয়লা, এমনকি জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও যদি সরবরাহ ব্যবস্থায় বারবার ধাক্কা আসে, তাহলে বিদ্যুৎ নিরাপত্তা কতটা স্থায়ী থাকবে?

ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলকভাবে বড় ও বৈচিত্র্যময় জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারত বহু উৎস ও প্রযুক্তির উপর নির্ভর করছে। বিপরীতে বাংলাদেশে বারবার জ্বালানি সরবরাহে ধাক্কা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির উৎপাদন ঘাটতি দেখিয়ে দিচ্ছে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব কতটা।

অর্থাৎ ঢাকার কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু আজকের লোডশেডিং সামাল দেওয়া নয়। দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের জোগান, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কয়লা আমদানি এবং এলএনজি নির্ভরতা কমিয়ে একটি স্থায়ী জ্বালানি ব্যবস্থা তৈরি করাই বড় পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থতা বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর চাপ আরও বাড়াতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks