ইউনুস জমানায় বাংলাদেশে ক্রমেই প্রভাব বাড়ছিল তুরস্ক এবং পাকিস্তানের। এরই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটছিল। তবে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের চাকা ফের কিছুটা ইতিবাচক দিকে ঘুরতে শুরু করেছে। এরই মাঝে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান পাকিস্তান এবং তুরস্কের সঙ্গে বৈঠক করলেন।

জানা গিয়েছে, সৌদি সফরে গিয়ে পাকিস্তান এবং তুরস্কের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন খলিলুর। সেই বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান খলিলুর। অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন বা ওআইসি-র সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক হয়েছিল। এদিকে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ সামনে এসেছে বাংলাদেশের। এই আবহে পাকিস্তান এবং তুরস্ক সহ মুসলিম দেশগুলির সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ।
বিগত ইউনুস সরকারের সময়কালে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমেই মধুর হয়েছে বাংলাদেশের। সেই সময় বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন খলিলুর। তবে এবার বিএনপি জমানায় সেই সম্পর্ক কেমন থাকবে, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। আর নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকা খলিলুর এখন বিদেশমন্ত্রী। এদিকে ২০২৫ সালের মে মাসে অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানকে সমর্থন করা তুরস্ক বাংলাদেশে সক্রিয় হয়েছে বিগত বছরগুলিতে। এর আগে বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছিল। সম্প্রতি আবার তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ছেলে বিলাল এরদোগান ঢাকায় গিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তুর্কি কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সির অর্থায়নে তৈরি এক মেডিক্যাল সেন্টার উদ্বোধন করেন বিলাল। কিছু গোয়েন্দা সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে 'টিকা' সহ বেশ কিছু তুর্কি এনজিও উগ্র ইসলামিক মতাদর্শ প্রচার করছে বাংলাদেশে। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে 'বৃহত্তর বাংলাদেশের' মানচিত্র দেখা গিয়েছিল এক অনুষ্ঠানে। সেই অনুষ্ঠানের নেপথ্যেও তুর্কি এনজিও যোগের বিষয়টি সামনে এসেছিল। তথাকথিত 'গ্রেটার বাংলাদেশ'-এর মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরপূর্বের বেশ কিছুটা অংশকে বাংলাদেশের অন্তর্গত দেখানো হয়েছিল। এহেন পরিস্থিতিতে 'আঞ্চলিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন'-এর আড়ালে তুরস্ক এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কী আলোচনা চলছে, তা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।