বাংলাদেশে আরও এক হিন্দুকে খুন করা হল। গতকালই খবর পাওয়া গিয়েছিল যশোরে হিন্দু সাংবাদিক খুনের বিষয়ে। আর সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঢাকার পার্শ্ববর্তী নরসিংদীতে খুন করা হল এক হিন্দু ব্যবসাীকে। মৃতের নাম শরৎ চক্রবর্তী মণি, বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজারে নিজের মুদি দোকানে খুন হন তিনি। জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়েছিল মণির ওপর। সেই হামলায় গুরুতর ভাবে খম হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তাঁর। এই নিয়ে গত ১৮ দিনের ছ'জন সংখ্যালঘু হিন্দু খুন হলেন বাংলাদেশে।

জানা গিয়েছ, ৫ ডিসেম্বর স্থানীয় সম রাত ১০টা নাগাদ এই হামলা হয়েছিল মণির ওপর। নিহত মণি শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। শরতের স্ত্রী অন্তরা মুখোপাধ্যায় গৃহবধূ। তাঁদের ছেলে অভীক চক্রবর্তীর বয়স ১২ বছর। আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত ছিলেন শরৎ। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে ফিরেছিলেন।
জানা গিয়েছে, গত ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ফেসবুকে নিজের উদ্বেগ ব্যক্ত করে একটি পোস্ট করেছিলেন শরৎ। লিখেছিলেন, 'চারিদিকে এত আগুন, এত হিংসা। আমার জন্মভূমি মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে।' আর সেই উদ্বেগ প্রকাশের একমাস যেতে না যেতেই তাঁকে খুন হতে হল। এই ঘটনার পরে বাংলাদেশের সমাজকর্মী বাপ্পাদিত্য বসু অভিযোগ করেছেন, রাষ্ট্রের মদতেই সংখ্যালঘু হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, দুষ্কৃতীরা শরতের থেকে মোটা টাকা 'জিজিয়া' দাবি করছিল। পুলিশের কাছে গেলে স্ত্রীকে অপহরণ করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁকে খুন করা হল তাঁরই দোকানে। এই আবহে ইউনুস সরকারকে তোপ দেগে বাপ্পাদিত্য ফেসবুক পোস্টে লেখেন, 'যে দেশে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনায় হিন্দুদের জাতিগত নিধন বা এথনিং ক্লেনজিং চলে, সেই দেশে হিন্দু হওয়াটাই তো খুন হয়ে যাবার পক্ষে বড় কারণ।'