বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন কমছে না এখনও। নির্বাচনের পর থেকে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতারা হিন্দুদের অভয় দিচ্ছিলেন। এরই মাঝে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। জানা গিয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় মন্দিরের সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি।

হিন্দুদের আন্দোলন কর্মসূচির ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান পুলিশকর্মীরা। এদিকে হামলার মুখেও বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যান হিন্দুরা। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টো নাগাদ শ্রী শ্রী মোহনলাল জিউর মন্দির থেকে কয়েকশো হিন্দু বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে করতে মিছিল বের করেছিলেন। সেই মন্দিরের পাশেই একটি জমি দখল করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেই দখল হয়ে যাওয়া জমিতে গিয়ে হিন্দুরা স্লোগান তুলতে থাকেন। সেই সময় মৌলবাদীরা বাধা দেয় মিছিলে। ঘটনায় নাম উঠেছে শহিদ মিয়াঁ নামে এক স্থানীয়র। সে নাকি তার কয়েকজন অনুগামী নিয়ে হামলা চালায় মিছিলে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, হিন্দু বিক্ষোভকারীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয় প্রতিবাদী হিন্দুদের ওপর। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়। মন্দির কমিটির নেতাদের দাবি, মন্দিরের জায়গা নিয়ে মামলা চলমান অবস্থায় প্রতিবেশী শহিদ মিয়াঁ সেখানে বালি ফেলে জায়গা দখল করে। এদিকে এই ঘটনাটিকে নিছক জমির বিবাদ হিসেবে তুলে ধরা যেতে পারে। তবে বাংলাদেশে হিন্দুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা হিন্দুদের বাড়িঘর দোকান দখলের ঘটনা প্রতিনিয়ত হয়ে চলেছে। সংখ্যালঘুদের দুর্বল ভেবেই এক শ্রেণির মৌলবাদীরা এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। আর তার প্রতিবাদ করতে গেলে এভাবে মেরে চুপ করানো হয় হিন্দুদের। এদিকে এই ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন মেনে নেন, বিবাদে থাকা খালে বালি ফেলে জায়গা দখল করেছে শহিদ। এদিকে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ নিষ্ক্রিয়। কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।