কিছু দিন আগেই পাকিস্তান, সৌদি আরবের মধ্যে এক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরে সেই চুক্তিতে যোগ দেয় পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ তুরস্ক। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। এই চুক্তিই মক্কা প্যাক্ট নামে পরিচিত। এদিকে, বহু রিপোর্টের গুঞ্জন যে, বাংলাদেশ সম্ভবত সেই মক্কা প্যাক্টের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে দিয়েছে। এদিকে, তারই মাঝে বাংলাদেশের অন্দরেই মক্কা প্যাক্ট নিয়ে কৌশলী বার্তা দিয়েছেন সেদেশের জামায়েত আমির শফিকুর রহমান।

এই মক্কা প্যাক্ট নিয়ে কার্যত তারেক সরকারের উপর কৌশলী চাপ বাড়িয়ে শফিকুর রহমান এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, 'মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়াটা বাংলাদেশের সম্পূর্ণ নিজস্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়। দেশের ও জনগণের প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনা করে বাংলাদেশ যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তাতে অন্য কারও বিচলিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই।' মনে করা হচ্ছে ঘুরিয়ে ভারতকেই এই কৌশলী বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের এই নেতা। এছাড়াও ভারতের এই পড়শি রাষ্ট্রের অন্দরে তারেক সরকারকে এই মক্কা প্যাক্ট নিয়ে চাপে রাখতেও এই বার্তা আমিরের, বলে মনে করা হচ্ছে।
চলতি বছরের ১৯ মার্চ ইসলামি সম্মেলনের সময় সৌদি আরবের রিয়াদে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি কী রকম হতে পারে সেটি নিয়েও আলোচনা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট এই চুক্তিটি সই হয়েছে মক্কায়। এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বর্তমানে সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থান করছেন এবং ওআইসি (OIC)-র একটি বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। সেখানে বাংলাদেশের এই চুক্তিতে যোগ দেওয়া নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। এদিকে, ভারতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসার কথা থাকলেও, তা নিয়ে নির্দিষ্ট করে ঢাকা এখনও কিছু জানায়নি। এই পরিস্থিতিতে তারেক সরকার কোন রাস্তাকে বেছে নেয়, সেদিকে তাকিয়ে বিশ্বকূটনীতি। ইতিমধ্যেই এক মক্কা প্যাক্ট নিয়ে ভারত কতটা উদ্বিগ্ন, সেই প্রশ্নের উত্তরে ভারতের বিদেশমন্ত্রী ইঙ্গিতবহ বার্তায় বলেছেন,'বিষয়টা তা নয়। আমার হিসাব অনুযায়ী, সবকিছুরই গুরুত্ব আছে, সবকিছুরই একটা ওজন থাকবে।' ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর সাফ কথা, 'আমার প্রতি বিরূপ মনোভাবাপন্ন কারোর পক্ষ থেকে যা কিছু ঘটে, তা অবশ্যই আমার হিসাব-নিকাশে গণ্য হয়।'