শেখ হাসিনা যাতে ঢাকায় কোনও ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতে না পারে—এ বিষয়ে ভারতকে ফের বার্তা দিল তারেক রহমানের সরকার। বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এ বার্তা দেন। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে একাধিক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। জানা গিয়েছে, দিল্লিতে আজ, ১৮ সেপ্টেম্বর, আওয়ামী লীগ নেতারা বৈঠকে বসবেন হাসিনার সঙ্গে। আর এই পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লিকে ঢাকার এই বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মাহদী আমিনের বক্তব্যে ‘ভারতে পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসর’ এবং ‘আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি’দের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ঢাকার বক্তব্য, ভারতের ভূখণ্ডে থাকা এসব ব্যক্তিরা যাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে অস্থিতিশীলতা তৈরির কোনও চেষ্টা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারত যেন প্রয়োজনীয় নজর রাখে। তবে বৈঠকের সরকারি বিবরণে নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তিকে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে এর আগে গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে অবনতি ঘটেছিল। আর এবার হাসিনা তাঁর দলের নেতাদের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করতে চলেছেন জেনে কি ঢাকা শঙ্কিত? দিল্লিতে আওয়ামী লীগের এই বৈঠক কি তারেকের মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে? আর তাই আগেভাগে দিল্লিকে এই বার্তা?
এই বার্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক শেখ হাসিনা ইস্যুরও রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে। বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ১৫ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া দুই দেশের সম্পর্ক সহজ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতকদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
ফলে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকার সাম্প্রতিক বার্তায় দুটি বিষয় পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে—একদিকে ভারতে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতকদের প্রত্যাবর্তনের দাবি, অন্যদিকে তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে কোনও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি না হওয়ার বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া। শেখ হাসিনা এই ইস্যুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হলেও ১৭ সেপ্টেম্বরের মাহদী আমিন-দীনেশ ত্রিবেদী বৈঠকের প্রকাশিত বিবরণে তাঁর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
{{/usCountry}}ফলে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকার সাম্প্রতিক বার্তায় দুটি বিষয় পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে—একদিকে ভারতে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতকদের প্রত্যাবর্তনের দাবি, অন্যদিকে তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে কোনও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি না হওয়ার বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া। শেখ হাসিনা এই ইস্যুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হলেও ১৭ সেপ্টেম্বরের মাহদী আমিন-দীনেশ ত্রিবেদী বৈঠকের প্রকাশিত বিবরণে তাঁর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
{{/usCountry}}