শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে 'গণঅভ্যুত্থান' ঘটিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদরা। এরপরে ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টাও হন তাঁরা। ক্রমে সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণ এবং তাঁদের রাজনীতির অন্যতম মন্ত্র হল 'ভারত বিরোধিতা'। এই আবহে বহু সময় 'দিল্লি না ঢাকা' স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছে বাংলাদেশের এনসিপির নেতাদের। সেই এনসিপির নেতাদেরই সম্প্রতি ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে খোশগল্পে মাততে দেখা যায়। সেই ঘটনার ছবি এবং ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

জানা গিয়েছে, এক ইফতারি পার্টিতে ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মগ্ন থাকতে দেখা যায় নাহিদ এবং এনসিপির অন্যান্য নেতাদের। ভারত ছাড়াও সেই ইফতারি পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন আরও অনেক দেশের কূটনীতিকরা। এদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশে গিয়ে জামাতে ইসলামির প্রধান শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে এসেছিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি। প্রসঙ্গত, জামাতের সঙ্গে এনসিপির জোট রয়েছে। এবং ভারত বিরোধিতার ইস্যুতে দুই দলই কট্টর অবস্থান গ্রহণ করে।
এর আগে এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ জামাত প্রধান শফিকুর রহমান নিজেই ফাঁস করেছিলেন যে ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বৈঠক হয়েছিল তাঁর। রয়টার্সের সাক্ষাৎকারে জামাতের আমির বলেছিলেন, 'অন্যান্য দেশের কূটনীতিকেরা যেমন প্রকাশ্যে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, ভারতীয় কূটনীতিক তেমনটি করেননি। ভারতীয় কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখতে বলেছিলেন।' পরে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তেই তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। তাতে তিনি লেখেন, 'আন্তর্জাতিক মিডিয়া রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ভারত যেহেতু আপনাদের প্রতিবেশী দেশ, তাদের সঙ্গে আপনাদের কোনও যোগাযোগ আছে কি না, কোনও কথাবার্তা বা বৈঠক হয় কি না। আমি তখন বলেছিলাম, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আমি অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে যখন বাড়িতে ফিরি, তখন দেশ-বিদেশের অনেকেই আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। অন্যান্য দেশের সম্মানিত কূটনৈতিকরা যেমন এসেছেন, তেমনি তখন ভারতের দুজন কূটনীতিকও আমাকে দেখতে আমার বাড়িতে এসেছিলেন। অন্যান্যদের মত তাদের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার সময় বলেছিলাম, যত কূটনীতিক এখানে এসেছেন, তাদের সকলের বিষয়েই আমরা প্রচার করেছি। আপনাদের এই সাক্ষাৎও আমরা প্রচার করতে চাই। তখন তাঁরা আমাকে বলেন, যাতে সেই বৈঠকের বিষয়টি প্রকাশ না করা হয়।'