Bangladesh Oil Price Hike: ঢাকায় জ্বালানির দামে বড় ধাক্কা লাগল। বাংলাদেশ সরকার একসঙ্গে চার ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এখন এক লিটার ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা। অকটেন ১৬৫ টাকা। পেট্রোল ১৬০ টাকা। কেরোসিনের দাম ১৫৫ টাকা। এর আগে দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৪৫, ১৪০ এবং ১৩৫ টাকা।
এই দাম বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ডিজেল দেশের পরিবহণ, কৃষি, শিল্প এবং পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের হিসাবে, দেশে বছরে প্রায় ৪৩.৫ লাখ টন ডিজেল ব্যবহার হয়। মোট পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহারের প্রায় ৬৪ শতাংশই ডিজেল। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু পেট্রোল পাম্পে থেমে থাকবে না।
পরিবহণ খরচ বাড়তে পারে। বাড়তে পারে পণ্য পরিবহণের খরচও। এর প্রভাব পড়তে পারে বাজারদরে। বিশেষ করে খাবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশের শিল্পখাতও এর প্রভাব অনুভব করতে পারে। ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞরা জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে বৃহত্তর মূল্যস্ফীতির আশঙ্কার কথা বলছেন।
কিন্তু একই সময়ে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ছবিটা কিছুটা আলাদা। টাইমস অব ইন্ডিয়ার ২১ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৮১ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩.০৬ ডলারে নেমেছিল। আমেরিকার পশ্চিম টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই-এর দামও ৮৯ সেন্ট কমে ৯৯.৪১ ডলারে দাঁড়ায়। সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়ছে। সেটিই আপাতত বাজারে দাম কমার অন্যতম কারণ।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল নয়। ইয়েমেনের হুথিদের হামলা এবং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করে রেখেছে। হুথিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন দিয়ে সরবরাহে সমস্যা হয়েছিল। সেই কারণে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী দিয়ে আরও বেশি তেল রফতানি করছে। সেপ্টেম্বরে দেশটির তেল রফতানি আগস্টের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।
{{/usCountry}}তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল নয়। ইয়েমেনের হুথিদের হামলা এবং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করে রেখেছে। হুথিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন দিয়ে সরবরাহে সমস্যা হয়েছিল। সেই কারণে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী দিয়ে আরও বেশি তেল রফতানি করছে। সেপ্টেম্বরে দেশটির তেল রফতানি আগস্টের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।
{{/usCountry}}তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা কমার পরও বাংলাদেশে জ্বালানির দাম বাড়ল কেন? এর বড় কারণ আমদানি খরচের আগের ধাক্কা। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি জাহাজ ভাড়া ও পরিবহণ খরচও বেড়েছে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ক্ষেত্রে এই বাড়তি খরচ সরাসরি সরকারি জ্বালানি ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনও বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
অর্থাৎ বিশ্ববাজারে সোমবার তেলের দাম সামান্য কমলেও তার অর্থ এই নয় যে আমদানিকারক দেশের খুচরো দাম সঙ্গে সঙ্গে কমবে। আগের কয়েক সপ্তাহের বেশি আমদানি খরচ, পরিবহণ ব্যয় এবং সরবরাহের ঝুঁকির প্রভাব এখনও বাংলাদেশের বাজারে রয়েছে। আর সেই কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে সাময়িক স্বস্তি এলেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানির দামে এসেছে আরও বড় চাপ।