বাংলাদেশে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার মহম্মদ ইউনুসের আমলে বেজিং-র প্রতি ঢাকার বিশেষ সখ্যতা কূটনৈতিক মহলের চোখ এড়ায়নি। এদিকে, শেখ হাসিনা পরবর্তী আমলে বাংলাদেশে তিস্তা প্রজেক্ট নিয়ে চিনের উদ্যোগও দিল্লির নজরে রয়েছে। এরই মাঝে খবর হল, বাংলাদেশ এবার সেদেশের অন্দরে ২০ টি এমন মেগা প্রজেক্ট তৈরি করতে চলেছে, যাতে টাকা ঢালতে পারে চিন।

বাংলাদেশের একাধিক মিডিয়া রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে চিনের অর্থানয়নের ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আরও একটি করে পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণসহ সড়ক, রেল ও সেতু খাতের ২০টির মতো প্রকল্পের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চিন সফরে এসব প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।প্রকল্পগুলির লিস্ট সেদেশের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে যেতে পারে বলে খবর। প্রসঙ্গত লিস্টে রয়েছে আরও একটি পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু। তবে রিপোর্ট বলছে, ওই ২০ প্রকল্পেই যে বাংলাদেশে চিনের বিনিয়োগ ঢুকবে, এমনটাও নিশ্চিত নয়।
আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের সফরে কুয়ালালামপুর যাওয়ার কথা আছে তারেক রহমানের। সেখান থেকে তাঁর চিন সফরে যাওয়ার কথা। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর হিসাবে তারেক রহমান চিনকে বেছে নিয়েছেন। ফলত, তাঁর প্রথম বিদেশ সফর হতে চলেছে চিনে। তাঁর এই চিন সফর ঘিরে যে দিল্লির কূটনৈতিক নজর থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। এদিকে, বাংলাদেশের সেতু বিভাগ চিনের অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ ৯ টি প্রকল্পে জোর দিয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় যমুনা সেতু। এটি পরিকল্পনা করা হয়েছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও গাইবান্ধার বালাসীঘাটের মধ্যে। এছাড়াও গুরুত্ব পাচ্ছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু। এই সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার মধ্যে। এছাড়াও পরিকল্পনায় রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, বাংলাদেশ-চিন মৈত্রী সেতু, ঢাকা সাবওয়ে। এছাড়াও চিনের থেকে বাংলাদেশ ২০ টি নতুন মিটারগেজ ইঞ্জিন সংগ্রহ করতে চায়, ২০০ টি নতুন ট্রেনের কোচ কেনার পরিকল্পনায় রয়েছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চিনের বিনিয়োগেরঅর্থ কতটা বিস্তার পায়, সেদিকে তাকিয়ে সব মহল।