ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এমনিতেই গত কয়েক মাস ধরে একাধিক ইস্যুতে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সীমান্তে ‘পুশ ব্যাক’ বিতর্ক, কাঁটাতার নির্মাণ নিয়ে বিরোধ, বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী বিক্ষোভ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থানের পার্থক্যের আবহে এবার নতুন করে আলোচনায় এল দিল্লি বিমানবন্দরের একটি ঘটনা।

১৪ জুন সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ডঃ জাহেদ-উর রহমান। সোমবার থেকে শুরু হতে চলা ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণের কথা ছিল। প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে তাঁর সফরের বিষয়টি গত শুক্রবারই দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতের বিদেশ মন্ত্রককে জানিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু বিমানবন্দরে অবতরণের পর ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জাহেদকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করায়। দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি তৃতীয় একটি দেশের বিমান ধরে বাংলাদেশে ফিরে যান।
জানা গিয়েছে, এর আগে জাহেদের নাম ওয়াচলিস্টে ছিল। তবে পরে তা সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ওয়াচলিস্ট থেকে। তবে ইমিগ্রেশনের ওয়াচলিস্টে তবুও থেকে গিয়েছিল তাঁর নাম। এটা প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই ঘটেছে। এবং এর জন্যেই জাহেদকে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। পরে অবশ্য জটিলতা কেটে গেলে জাহেদকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দুই দেশের সম্পর্ক নানা কারণে সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তথাকথিত ‘পুশ ব্যাক’ বা অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নিজেদের নাগরিকদের অনেক ক্ষেত্রেই ফেরাচ্ছে না বিজিবি। আবার সীমান্তে পাচার রুখতে ব্যর্থ বিজিবি। এই আবহে বাংলাদেশি পাচারকারীদের অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ গুলি চালালেও ঢাকা আপত্তি জানাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ভারত-বিরোধী কর্মসূচি ও বিক্ষোভও দেখা গেছে। বিশেষ করে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, পুশ ব্যাক এবং জলবণ্টন সহ বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী বক্তব্য আরও জোরালো হয়েছে। অথচ একই সময়ে বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ভারতীয় সুযোগ-সুবিধার ওপর বাংলাদেশের নির্ভরশীলতা কমেনি। এখানেই রয়েছে বাংলাদেশের নীতিগত দ্বিচারিতা। একদিকে ভারতবিরোধী রাজনৈতিক বক্তব্য, অন্যদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা—এই দুই অবস্থান পরস্পরবিরোধী।
{{/usCountry}}ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দুই দেশের সম্পর্ক নানা কারণে সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তথাকথিত ‘পুশ ব্যাক’ বা অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নিজেদের নাগরিকদের অনেক ক্ষেত্রেই ফেরাচ্ছে না বিজিবি। আবার সীমান্তে পাচার রুখতে ব্যর্থ বিজিবি। এই আবহে বাংলাদেশি পাচারকারীদের অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ গুলি চালালেও ঢাকা আপত্তি জানাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ভারত-বিরোধী কর্মসূচি ও বিক্ষোভও দেখা গেছে। বিশেষ করে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, পুশ ব্যাক এবং জলবণ্টন সহ বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী বক্তব্য আরও জোরালো হয়েছে। অথচ একই সময়ে বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ভারতীয় সুযোগ-সুবিধার ওপর বাংলাদেশের নির্ভরশীলতা কমেনি। এখানেই রয়েছে বাংলাদেশের নীতিগত দ্বিচারিতা। একদিকে ভারতবিরোধী রাজনৈতিক বক্তব্য, অন্যদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা—এই দুই অবস্থান পরস্পরবিরোধী।
{{/usCountry}}আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা। বিভিন্ন সময় মন্দিরে হামলা, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর এবং ধর্মীয় উত্তেজনার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এসব ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশের মতে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। এই আবহে জাহেদকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি শুধুই প্রশাসনিক জটিলতা, নাকি বৃহত্তর কোনও কূটনৈতিক বার্তা? এই প্রেক্ষাপটে ভারতের বিরুদ্ধে অসহিষ্ণুতার অভিযোগ তোলার আগে বাংলাদেশের নিজের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং প্রতিবেশী দেশের প্রতি কূটনৈতিক আচরণ নিয়েও আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন।