বাংলাদেশ আবারও ভারতের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি দ্বিপাক্ষিক (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য প্রায় ১৬ হাজার ৮৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়) মূল্যের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এই প্রস্তাবে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল)-এর নামও রয়েছে, যা ভারত-বাংলাদেশ জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।

বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৩তম বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, বিদ্যমান সরকারি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, আন্তর্জাতিক বাজারের সূচক মূল্য, নির্ধারিত প্রিমিয়াম এবং প্রয়োজনীয় আমদানির পরিমাণ বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এবার মোট ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনবে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল), সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইএনওসি, চিনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, থাইল্যান্ডের ওকিউটি এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের আইওসিএল-এর কাছ থেকে নিয়মিত জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত দুই দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি অংশীদারিত্বেরই প্রতিফলন। গত কয়েক বছরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজেল সরবরাহ, পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহণ এবং বিদ্যুৎ বাণিজ্যের পাশাপাশি এখন পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহেও ভারতের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ভারতীয় সংস্থা আইওসিএল দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করছে। দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে হওয়া এই জি-টু-জি চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে। একই সঙ্গে ভারতের জন্যও এটি দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি রপ্তানির বাজার আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করছে।
{{/usCountry}}ভারতীয় সংস্থা আইওসিএল দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করছে। দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে হওয়া এই জি-টু-জি চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে। একই সঙ্গে ভারতের জন্যও এটি দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি রপ্তানির বাজার আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করছে।
{{/usCountry}}জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি বৈঠকে একাধিক অবকাঠামো প্রকল্পেরও অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত, কারণ বাংলাদেশের শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবহণ খাতের চাহিদা মেটাতে নিয়মিত পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড পরিচালিত ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের সংশোধিত সমন্বিত ট্যারিফ অনুমোদনেরও সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, রাস্তা নির্মাণ, বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং সার সংরক্ষণ প্রকল্প-সহ আরও কয়েকটি বড় সরকারি প্রকল্পের প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
ভারতীয় কূটনৈতিক মহলের মতে, আইওসিএল-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি শুধু বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি ভারত-বাংলাদেশ কৌশলগত সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা আরও গভীর করার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।