ব্রিকস উপলক্ষ্য়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে গিয়েছিল দিল্লির আমন্ত্রণ বার্তা। তবে সেপ্টেম্বরে ভারতে আয়োজিত ব্রিকসের সময় এদেশের সফরে আসেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকার তখতে বসার পর তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন চিনে। এরপর তাঁর ভারত সফর ঘিরে জল্পনা চরমে উঠলেও তিনি ভারতে সফরে আসেননি। এদিকে, রাষ্ট্রসংঘের সভার ফাঁকে আজ বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় বেলা ১১.৩০ মিনিট নাগাদ তারেক রহমান বৈঠক করবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে। তবে এরই মাঝে গম কিনতে ফের ভারতের মুখাপেক্ষী বাংলাদেশ। ভারত থেকে বাংলাদেশের গম রপ্তানি নিয়ে ব্লুমবার্গের নয়া রিপোর্ট প্রকাশ্যে।

ইতিমধ্যেই ইলিশ কিনতে বাংলাদেশকে মুখাপেক্ষী হতে হয়েছে মোদীর রাজ্য গুজরাটের। এবার গম কিনতেও ফের ভারতের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট বলছে, চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত অচলাবস্থার কারণে আটার দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ভারত থেকে গম আমদানি পুনরায় শুরু করেছে। গত এক মাসে আটার দাম ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। একই সময়ে, বাংলাদেশে চালের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা প্রতি টন ৩০৬ থেকে ৩২৬ ডলার দরে দুই লাখ টনেরও বেশি ভারতীয় গম বুক করেছেন, যা রেলপথে বাংলাদেশ পৌঁছাবে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের মতে, বাংলাদেশ বছরে প্রায় দশ লক্ষ টন গম উৎপাদন করে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত ৭০ লক্ষ টন গম আমদানি করতে হয়।
এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে শস্য পরিবহনে এখনো নানা ধরনের বাধা রয়েছে। এই এলাকাটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ গম রপ্তানি এলাকা। তবে রাশিয়া বনাম ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে এই অঞ্চলে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। যার জেরে ভারত গম রপ্তানির বাজারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিচ্ছে। একসময় বাংলাদেশের গমের চাহিদার একটি বড় অংশ ভারত সরবরাহ করলেও ২০২২ সালে পরিস্থিতি বদলে যায়। তথ্য বলছে, একই সময়ে, সে বছরের তাপপ্রবাহের কারণে ২০২১-২২ শস্য বছরে ভারতের নিজস্ব গম উৎপাদন আগের বছরের ১০৯.৫৯ মিলিয়ন টন থেকে ২.৫ শতাংশ কমে ১০৬.৮৪ মিলিয়ন টনে নেমে আসে। প্রত্যাশার চেয়ে কম ফসল উৎপাদন এবং বিশ্বব্যাপী চাহিদা বৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায়, নয়াদিল্লি ২০২২ সাল থেকে সমস্ত গম রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে, লেটার অফ ক্রেডিট দ্বারা সমর্থিত চালান এবং অন্যান্য দেশের খাদ্য-নিরাপত্তার চাহিদা মেটাতে অনুমোদিত সরবরাহের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞার ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। তখন বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা, কানাডা, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে সরবরাহ নিতে বাধ্য হয়েছিল বলে জানা যায়। এই বছরের আগস্টে, ভারত তার চার বছর ধরে চলা গম রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এর নেপথ্য কারণ হল, ২০২৫-২৬ শস্য বছরে রেকর্ড ১২০.৬৫ মিলিয়ন টন গম উৎপাদিত হওয়ায় দেশে উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে।