ভারতে সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিকস চলাকালে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। তবে তিনি সেপ্টেম্বরে ভারতে আসেননি। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বর উঠে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ঢাকা। এরপরই সেপ্টেম্বরে তারেক রহমানের ভারত সফর বাতিল করে ঢাকা। এদিকে, ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফর হিসাবে চিনকে বেছে নেন। সদ্য গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ আমেরিকায়। এরপর নভেম্বর মাসে তাঁর সৌদি আরব, তুরস্কে সফরের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশ, মক্কা প্যাক্টে যোগ দিতে পারবে কি না, সেই জল্পনার মাঝেই তারেকের বিদেশ সফর ঘিরে এই সমস্ত গুঞ্জন চর্চায়। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা তুলল ভারতের সঙ্গে জল-সমঝোতার কথা।

ঢাকায় ‘জলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে সদ্য যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সেখানে এক প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের মন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে জল সহযোগিতা জোরদারে একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ। এছাড়াও তিনি বলেন, এই কমিটির জন্য ভারতীয় প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর। এদিকে, এই জলবণ্টন চুক্তি ঘিরে ধীরে ধীরে তপ্ত হচ্ছে পরিস্থিতি। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিকে এ বার ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে দাবি করলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট নদী বিশেষজ্ঞ মঞ্জুর এ চৌধুরী। তাঁর দাবি, ওই চুক্তিতে বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতি, নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের বিষয় যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। মঞ্জুর চৌধুরীর আহ্বান, নতুন বাস্তবতার ভিত্তিতে নতুন সমঝোতা করার প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে, সদ্য এই গঙ্গা জলচুক্তি নিয়ে ভারতের তরফে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, ‘আমাদের একটি যৌথ নদী কমিশন রয়েছে এবং নদী সম্পর্কিত সমস্ত বিষয় এই কমিশনে আলোচনা করা হবে। কারিগরি পর্যায়ে গঙ্গা জল চুক্তি নিয়ে বৈঠক অব্যাহত রয়েছে।’
এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ ন্যায্য হিস্যা চায়। জল বণ্টনের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান রয়েছে।’ এরই সঙ্গে বাংলাদেশের মন্ত্রী বলেন, ‘জল ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সংলাপ প্রয়োজন।’
{{/usCountry}}এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ ন্যায্য হিস্যা চায়। জল বণ্টনের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান রয়েছে।’ এরই সঙ্গে বাংলাদেশের মন্ত্রী বলেন, ‘জল ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সংলাপ প্রয়োজন।’
{{/usCountry}}এদিকে, বাংলাদেশের জলসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে সবাই বেশ উদগ্রীব। ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর এই ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ১২ ডিসেম্বরের আগেই আমাদের নতুন চুক্তি করতে হবে। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ এবং ভারত উভয় পক্ষ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বৈঠকের ভিত্তিতে আমরা আশাবাদী যে, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হবে, সেখানে আমাদের মূল অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা।