Dinesh Trivedi meets Tarique Rahman: বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের আবহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এই সাক্ষাৎ হয়। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা কাটিয়ে সম্পর্ককে ফের ইতিবাচক পথে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সাক্ষাতের বিষয়টি জানানো হয়। গত জুন মাসে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করলেন দীনেশ ত্রিবেদী। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বৈঠকটি কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি হিসেবে রবিবার বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল। প্রথমে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নিলেও পরে হাইকমিশনার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী একান্তে আধ ঘণ্টারও বেশি সময় কথা বলেন বলে জানা গিয়েছে।
দীনেশ ত্রিবেদী গত ২৫ জুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করে ঢাকায় ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৯ জুলাই প্রথমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। রবিবারের বৈঠক ছিল তাঁদের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ।
দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে ঢাকা। বাংলাদেশের এক দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্য, পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা এবং স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। একইসঙ্গে দুই দেশকেই পরস্পরের সংবেদনশীলতার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
{{/usCountry}}দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে ঢাকা। বাংলাদেশের এক দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্য, পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা এবং স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। একইসঙ্গে দুই দেশকেই পরস্পরের সংবেদনশীলতার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
{{/usCountry}}সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর বার্তা সামনে এল। ফলে তারেক রহমানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠককে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের একদিন আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও ইতিবাচক বার্তা দেন দীনেশ ত্রিবেদী। ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের শিশুদের জন্য খেলার জায়গা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানানোর কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের নেতারা যখন পরস্পরের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তখন অনেক সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হয়।
ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং তাঁর বিশ্বাস, দুই দেশের মানুষের মধ্যে গভীর যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর কথায়, পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে দেখার কোনও কারণ নেই; বরং সবকিছুকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর এই সাক্ষাৎ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে সংলাপের দরজা খুলতে পারে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। আগামী দিনে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দিকেই দুই দেশ এগোয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।