ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের তিক্ততা ক্রমেই দূর হচ্ছে তারেক রহমানের জমানায়। এরই মাঝে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লা গেলেন ভারতীয় সেনার যুদ্ধ কলেজে। মধ্যপ্রদেশের মহউ-তে অবস্থিত এই কলেজে গিয়ে সেনা, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনা একাধিক অফিসারের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন রিয়াজ। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে সেখানে সামরিক অফিসারদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশি হাইকমিশনার।

মহউ-তে সেনার কলেজে রিজায় হামিদুল্লাকে স্বাগত জানান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরজিৎ সিং সাহি। সেনার কলেজের তরফ থেকে রিয়াজের সফরের ছবি প্রকাশ করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এদিকে রিয়াজও এই সফর নিয়ে পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে তিনি জানান, আগামীতে দুই দেশ কীভাবে উভয়ের স্বার্থে তাদের মধ্যকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে, তা নিয়ে কথা হয় তাঁর।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাইরে তীব্র প্রতিবাদ, আন্দোলন শুরু হয়েছিল দিল্লিতে। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে এই সব বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছিল। তখন ঢাকার মসনদে ছিলেন মহম্মদ ইউনুস। তবে এখন ঢাকার মসনদে আছেন তারেক রহমান। আর এতেই কয়েক মাসের ব্যবধানে ঢাকা-দিল্লি তিক্ততা দূর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
এর আগে ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশি হিন্দু যুবক দীপুকে নৃশংস খুনের প্রতিবাদে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের। পুলিশের বসানো ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনের খুব কাছে চলে আসে বিক্ষোভকারীরা। এই আবহে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ওপরে। এদিকে কলকাতাতেও বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখনো হয়। সেই প্রতিবাদ ঠেকাতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে। তাতে রক্ত ঝরে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীর। এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর দিল্লি, শিলিগুড়ি এবং আগরতলায় যাবতীয় ভিসা পরিষেবা স্থগিত করার ঘোষণা করে বাংলাদেশের হাইকমিশন। পরে তা ফের চালু করা হয়। নির্বাচনের আগে ফের ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে বাংলাদেশ। তবে এখন আবার সেই পরিষেবা চালু হয়েছে।