Bangladeshi Hindu Killed: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টকে ঘিরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে। পোস্টে দাবি করা হয়েছে, মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকায় পান বিক্রেতা শ্রীবাস চন্দ্র সাহা নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এক ক্রেতার হামলায়। যদিও এই ঘটনার স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা সংবাদমাধ্যম সূত্রে নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। তবে স্থানীয় ব্যক্তিদের বয়ানের ভিডিয়ো সামনে এসেছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই সব বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল পোস্ট অনুযায়ী, অভিযুক্ত ইশা মোল্লা নামে এক ব্যক্তি নিয়মিত বাকিতে পান নিতেন শ্রীবাস চন্দ্র সাহার দোকান থেকে। অভিযোগ, বারবার বাকি হওয়ায় শ্রীবাস সাহা তাঁকে অন্য দোকানে যেতে অনুরোধ করেছিলেন। পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে, ঘটনার দিন অভিযুক্ত ব্যক্তি ৩০ টাকার পান নিয়ে মাত্র ১০ টাকা দেন। বাকি টাকা চাইলে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এর পরেই অভিযুক্ত প্রথমে শ্রীবাস চন্দ্র সাহার গলা চেপে ধরেন এবং পরে তাঁকে লাথি মারেন। স্থানীয়রা বলেন, শ্রীবাস বাবুর গোপনাঙ্গে লাথি লাগে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কি না, তাও স্পষ্ট নয়। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো দাবিগুলির সত্যতা যাচাই হওয়া এখনও বাকি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচন ঘিরে এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে দেশে শতাধিক সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাদের তথ্যে খুন, মন্দিরে হামলা, লুটপাট, জমি দখল ও সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের অভিযোগ রয়েছে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচন ঘিরে এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে দেশে শতাধিক সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাদের তথ্যে খুন, মন্দিরে হামলা, লুটপাট, জমি দখল ও সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের অভিযোগ রয়েছে।
{{/usCountry}}আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। NPR-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও ভয়ভীতির ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বহু হিন্দু বাড়ি ও মন্দিরে হামলার অভিযোগ সামনে আসে। সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, শতাধিক বাড়ি-দোকান ও বহু মন্দির আক্রান্ত হয়।
কিছু মানবাধিকার ও গবেষণা সংস্থার রিপোর্টে হত্যাকাণ্ড, মন্দির ভাঙচুর, জোরপূর্বক জমি দখল এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক আক্রমণের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রায়ই বলা হয় যে অনেক ঘটনা রাজনৈতিক সংঘর্ষ, ব্যক্তিগত বিরোধ বা ভুয়ো তথ্যের সঙ্গে মিশে প্রচারিত হয়। একই সঙ্গে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার আশ্বাসও দিয়ে থাকে।