বাংলাদেশের রংপুরে কীর্তন বন্ধের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, স্থানীয় শীতলা মন্দিরে কীর্তন অনুষ্ঠানে আপত্তি জানিয়ে একদল কট্টরপন্থী হুমকি দেয় এবং পরে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। অভিযোগ, কট্টরপন্থীদের তরফ থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, কীর্তন চলাকালীন হঠাৎই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি মন্দির প্রাঙ্গণে ঢুকে আওয়াজ বন্ধ করার দাবি তোলে এবং পরে কীর্তন থামিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। উপস্থিত ভক্তদের একাংশ প্রতিবাদ জানালেও পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে থাকা হিন্দুরা প্রশ্ন তোলেন, ধর্মীয় আচার পালনের কি অধিকার নেই তাঁদের?
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, বহু বছর ধরে ওই এলাকায় নিয়মিত কীর্তনের আয়োজন হয়ে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও প্রশাসনের তরফে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি।
ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ঘিরে একাধিক বিতর্কের আবহে রংপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ চাইছেন, প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনুক।