লস্কর-ই-তৈবার মডিউলের পর্দা ফাঁস হয়েছে সম্প্রতি। সেই মামলার তদন্তে এবার উঠে এসেছে আরও এক চমকপ্রদ তথ্য। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল জানিয়েছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশি যুবকদের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল। বাংলাদেশে অবস্থিত লস্করের একজন কমান্ডার এই নেটওয়ার্কটি পরিচালনা করছিল। তদন্তে জানা গেছে, দেশের প্রধান মেট্রো শহর দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা ও চেন্নাই এই মডিউলের টার্গেট ছিল। সূত্রের খবর, হোলি উপলক্ষে কিছু জায়গায় রেকিও করা হয়েছিল এবং হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

এই মামলায় দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল মালদহ থেকে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম উমর ফারুক এবং রবিউল ইসলাম। উমর মালদহের বাসিন্দার। রবিউল বাংলাদেশি। এরা লস্করের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এছাড়া তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার মিজানুর রহমান, মহম্মদ শব্বত, উমর, মহম্মদ লিটন, মহম্মদ শহিদ ও মহম্মদ উজ্জ্বলরা সবাই বাংলাদেশি। শব্বির আহমেদ লোন নামে একজন হ্যান্ডলার নির্দেশে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে নাশকতা ছকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল এই বাংলাদেশিরা। এই শব্বির লোন কাশ্মীরি। ২০০৭ সালে এক আত্মঘাতী হামলার চেষ্টার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সে বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়ে সেখানে ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল। সম্প্রতি কলকাতায় সে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। বড়সড় জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করছিল এই শব্বির। আর সেই ছকের ঘুঁটি ছিল এই বাংলাদেশি জঙ্গিরা। হামলার সম্পূর্ণ রূপরেখা তৈরি করেছিল শব্বির।
এদিকে দিল্লির চাঁদনী চকে অবস্থিত মন্দিরও তাদের নিশানায় রয়েছে। বলা হচ্ছে, ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি মসজিদে হামলার প্রতিশোধ নিতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। কয়েক মাস আগেই দিল্লির লালকেল্লার কাছে একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি। সেই হামলায় ১৫ জনের মৃত্যু ঘটেছিল। এই আবহে দিল্লির স্পর্শকাতর এলাকায় ব্যাপক হারে আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লিতে প্রবেশকারী প্রতিটি গাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং পরিত্যক্ত গাড়িগুলির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}এদিকে দিল্লির চাঁদনী চকে অবস্থিত মন্দিরও তাদের নিশানায় রয়েছে। বলা হচ্ছে, ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি মসজিদে হামলার প্রতিশোধ নিতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। কয়েক মাস আগেই দিল্লির লালকেল্লার কাছে একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি। সেই হামলায় ১৫ জনের মৃত্যু ঘটেছিল। এই আবহে দিল্লির স্পর্শকাতর এলাকায় ব্যাপক হারে আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লিতে প্রবেশকারী প্রতিটি গাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং পরিত্যক্ত গাড়িগুলির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}তদন্তের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের দাবি, লস্কর প্রধান হাফিজ সইদ ও জঙ্গি নেতা জ্যাকিউর রহমান লাখভির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল বাংলাদেশি হ্যান্ডলার শব্বির আহমেদ লোন। পুলিশ বলছে, ভারতে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে একটি স্থানীয় মডিউল তৈরি করছিল আইএসআই। এর জন্য তহবিলও সরবরাহ করা হয়েছিল, যাতে বড় শহরগুলিতে সমন্বিত হামলা চালানো যায়। এই নেটওয়ার্কে আইএসআই ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সন্ত্রাসী সাইদুল ইসলামের মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে কাজ করছিল শব্বির।