পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসাবে তুরস্ক নিজেকে বহুবার পরিচিতি দিয়েছে। ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ও তুরস্ক, সৌদির সঙ্গে হাতে হাত রেখে প্রতিরক্ষা সহায়তা মূলক মক্কা প্যাক্টে যোগ দিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের এই বন্ধু, ভারতের গা ঘেঁষে, বাংলাদেশের বগুরায় তৈরি করছে ড্রোন নির্মাণ কারখানা। এরই মধ্যে তুরস্কে গিয়েছেন বাংলাদেশের জামায়েত নেতা শফিকুর রহমান।

তুরস্কে, এদিন সেদেশের ইস্তানবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে, বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয়ে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বক্তব্য রাখেন। জামায়াতের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। জামায়েতের আমির বলেন, ‘বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক কোনো সাম্প্রতিক বা কেবল কয়েক দশকের বিষয় নয়। তুরস্কের জনগণের সঙ্গে আমাদের রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক।’ এরই পাশাপাশি তিনি বলেন, এই সম্পর্ক আগামীতে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’ এই আলোচনার মূল বিষয় ছিল, ‘বাংলাদেশ ২.০-এর সংস্কারের বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তুরস্ক-বাংলাদেশের সহযোগিতার নতুন দিগন্ত’।
সম্মেলনে বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের চলমান সংস্কারপ্রক্রিয়া, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠন এবং তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সম্ভাবনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের মোড় ঘিরে বিভিন্ন আলোচনা হয়েছে এযাবৎকালে। এদিকে, গত জুলাই মাসে এক মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, তুরস্কের সহযোগিতায় বাংলাদেশের বগুড়ায় ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে। জেলায় নির্মিতব্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে এই কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, বলেও সেই প্রতিবেদন দাবি করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বগুড়া বিমানঘাঁটির পাশে এই ড্রোন কারখানা নির্মাণ করা হবে।’ এরই মাঝে তুরস্ক-বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে জামায়েতের আমির শফিকুরের বক্তব্যও উঠে এল খবরে।