Sheikh Hasina: শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন তথা বাংলাদেশে ফেরার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী মাসে তিনি দেশে ফিরবেন বলে ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লিগ সভানেত্রী তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। ডিসেম্বর যত এগিয়ে আসছে ততই শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার তাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানাতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, পলাতক ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ভারত থেকে দেশে ফিরতে শেখ হাসিনাকে সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না।

এদিন দুপুরে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং-কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর পর সংবাদমাধ্যমের মুখে হয়ে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা একজন পলাতক, সন্ত্রাসী। তিনি কী তার শ্বশুরবাড়ি রংপুরে বেড়াতে এসেছেন যে তাঁকে পাসপোর্ট দিতে হবে, আর পাসপোর্ট দিয়ে তিনি আসবেন? আমাদের সঙ্গে ভারতের একটি এক্সট্রাডিশন ট্রিটি আছে। সন্ত্রাসী এবং ক্রিমিনালকে ধরার জন্য এই চুক্তি। একজন টেরোরিস্ট ক্রিমিনালকে ধরতে পাসপোর্ট লাগে না, লাগে জুডিশিয়াল প্রসেস।’ তিনি আরও বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া এই টেরোরিস্ট, যে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে, তাঁকে আমরা কোনওভাবেই একজন সাধারণ কমার্শিয়াল ট্রাভেলার হিসেবে দেখতে পারি না। আমরা তাঁর হ্যান্ডওভার চাই।’
তাঁর এই বক্তব্যের অর্থ হল, বন্দি বিনিময় চুক্তি মেনে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ সরকারের হাতে সমর্পণ করতে হবে। তবে ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে সবুজ সংকেত দেয়নি। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা নিজে থেকেই ঘোষণা করেছেন তিনি ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরতে চান। এজন্য তাকে তাঁর বাজেয়াপ্ত পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এমনও বলেছেন, তাঁকে পাসপোর্ট ফেরানো হোক অথবা দেশে ফেরার ট্রাভেল পাস দেওয়া হোক। ২০২৪ এর ৫ অগস্ট বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিমান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লিতে পৌঁছে দিয়ে গিয়েছিল। শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রয়োজনে সেই বিমান আবার পাঠানো হোক। তিনি সেনা বিমানেই দেশে ফিরে যাবেন। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ফেরার অনুমতি না দিলে কীভাবে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সম্ভব এই ব্যাপারে স্বয়ং হাসিনা এবং তাঁর দলের নেতারা মুখ খোলেননি। এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে বাংলাদেশ সরকার অনুমতি না দিলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা অনিশ্চিত। তবে হাসিনা তাঁর ইচ্ছার কথা ঘোষণা করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে রেখেছেন।
সংবাদ সংস্থা এপিকে দেওয়া সর্বশেষ ই-মেল সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেছেন, 'মৃত্যু যদি আমার ভাগ্যে লেখাই থাকে, তবে আমার নিজের দেশের মাটিতে, নিজের মানুষের মাঝেই মরতে চাই।' তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশেই ফিরব। আমার এই সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন হয়নি।' যদিও ঠিক কীভাবে দেশে ফিরবেন তা জানাননি আওয়ামি লিগ নেত্রী। দেশে ফিরলে যে বিপদে পড়তে হতে পারে সেই বিষয়ে ওয়াকিবহাল হাসিনা। তিনি বলেন, 'আমি জানি, ফিরে গেলে গ্রেফতার করা হতে পারে। কারারুদ্ধ, নির্যাতন, এমনকী হত্যাও করা হতে পারে। এই সম্ভাবনাগুলি সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অবগত। কিন্তু দূর থেকে আমার মানুষদের কষ্ট পেতে দেখে বাকি জীবনটা কাটাতে পারি না।'
{{/usCountry}}সংবাদ সংস্থা এপিকে দেওয়া সর্বশেষ ই-মেল সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেছেন, 'মৃত্যু যদি আমার ভাগ্যে লেখাই থাকে, তবে আমার নিজের দেশের মাটিতে, নিজের মানুষের মাঝেই মরতে চাই।' তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশেই ফিরব। আমার এই সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন হয়নি।' যদিও ঠিক কীভাবে দেশে ফিরবেন তা জানাননি আওয়ামি লিগ নেত্রী। দেশে ফিরলে যে বিপদে পড়তে হতে পারে সেই বিষয়ে ওয়াকিবহাল হাসিনা। তিনি বলেন, 'আমি জানি, ফিরে গেলে গ্রেফতার করা হতে পারে। কারারুদ্ধ, নির্যাতন, এমনকী হত্যাও করা হতে পারে। এই সম্ভাবনাগুলি সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অবগত। কিন্তু দূর থেকে আমার মানুষদের কষ্ট পেতে দেখে বাকি জীবনটা কাটাতে পারি না।'
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, গণআন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট ২০২৪-এ বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে পদ্মাপাড়ের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকার আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, আন্দোলন রুখতে সরকারি দমন-পীড়নে কয়েক শো মানুষকে হত্যা করে হাসিনার পুলিশ। একটি মামলায় ২০২৫ সালে হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীকালে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা বোঝা চাপানো হয়েছে।