বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে সফরের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি ঢাকা। বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হচ্ছে, তার উপরই সফরের সময় নির্ভর করবে। ফলে নয়াদিল্লি থেকে আমন্ত্রণ আসার পর এবার ঢাকার উত্তরের দিকে নজর পড়েছে কূটনৈতিক মহলের।

বৃহস্পতিবার বিদেশ দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সরকার সব দেশের সঙ্গে সফর ও যোগাযোগের বিষয়ে ইতিবাচক। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যস্ত কর্মসূচি এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার অগ্রগতির বিষয়টি বিবেচনা করেই ভারত সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলন পর্যন্ত এখনও বেশ কিছুটা সময় রয়েছে এবং এর মধ্যে পরিস্থিতিতে অনেক পরিবর্তন হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের একটি বিশেষ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান দেশ হওয়ায় সেই দায়িত্বের সূত্রেই তারেক রহমানকে সম্মেলনের একটি অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
তবে শুধু ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণই নয়, তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য **দুটি পৃথক আমন্ত্রণ** দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। একটি আমন্ত্রণ দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য এবং অন্যটি সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ বা যোগাযোগমূলক অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য।
এই সফর হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যথেষ্ট টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিক ইস্যুতে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। সীমান্ত, নিরাপত্তা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের উত্তাপও প্রকাশ্যে এসেছে।
{{/usCountry}}এই সফর হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যথেষ্ট টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিক ইস্যুতে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। সীমান্ত, নিরাপত্তা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের উত্তাপও প্রকাশ্যে এসেছে।
{{/usCountry}}এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর সেই সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, সেটিই বড় প্রশ্ন। ভারত সফর হলে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মুখোমুখি বৈঠকের সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রীও মনে করছেন, দুই দেশের সরকারপ্রধান সরাসরি কথা বললে বহু অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
শামা ওবায়েদ ইসলামের বক্তব্য, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সমস্যার সমাধানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, এই সুযোগ এখনও রয়েছে এবং তা কাজে লাগানোর সম্ভাবনাও বজায় আছে।
তবে সফরের তারিখ এখনও নির্দিষ্ট নয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি এবং সাংবিধানিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ আলোচনার অগ্রগতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঢাকার বার্তা আপাতত স্পষ্ট—**দিল্লির আমন্ত্রণকে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে না, বরং পরিস্থিতি অনুকূল হলে তারেক রহমান ভারত সফরে যেতে পারেন।**
ফলে সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলন শুধু আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের উপস্থিতির জন্য নয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।