Bangladeshi Saree Exhibition: একদা ভারত বিরোধিতার সুর চড়িয়ে বিএনপি নেতারা ঢাকার রাস্তায় নেমেছিলেন। সেই নেতাদের অনেকেই নিজেদের স্ত্রীর 'ভারতীয় শাড়ি' রাস্তায় পুড়িয়েছিলেন। ভারতের পণ্য বয়কটের জন্য আন্দোলন চলেছিল বাংলাদেশে। আবার ভারতে ইলিশ মাছ বা অন্যান্য পণ্য না পাঠানোরও দাবি উঠেছিল। সেই আন্দোলনটা হয়েছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। তখন সরকারে ছিলেন শেখ হাসিনা। আর সেদিন ভারত বিরোধিতায় রাজপথ কাঁপানো বিএনপি আজকে ক্ষমতায়। এরপর গঙ্গা-পদ্ম দিয়ে গড়িয়েছে অনেক জল। হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকার রাজপথে স্লোগান উঠেছে - দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা! গদিতে বসেই ভারতের প্রতি তাদের সুর বদলেছে বিএনপি। আর এই আবহে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশি হাইকমিশন 'শাড়ি কূটনীতি' শুরু করল।

রিপোর্ট অনুযায়ী, দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশি হাইকমিশনের তরফ থেকে বাংলাদেশি শাড়ির একটি প্রদর্শনী চালু করা হয়েছে। পাবনা এবং টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি বিক্রি হচ্ছে সেই প্রদর্শনীতে। উল্লেখ্য, ইউনেস্কো ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি-বয়ন শিল্প’কে মানবজাতির অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই টাঙ্গাইলের শাড়ির ঐতিহ্য প্রায় ২০০ বছর পুরনো। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার, সন্তোষ ও ঘ্রিন্দা এলাকা থেকে এই শিল্প ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে। আবার টাঙ্গাইলের শাড়ি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যেও রেষারেষি আছে। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি ও নদিয়ায় তৈরি টাঙ্গাইল শাড়িকে ২০২৪ সালে জিওগ্রাফিক্যাল আইডেন্টিফিকেশন (জিআই) হিসেবে ঘোষণা করেছিল ভারত সরকার। সেই বছরই আবার বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয় টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
দুই দেশেই এই টাঙ্গাইল শাড়ির চাহিদা রয়েছে। এই আবহে অনেকেই এই সব শাড়ি কিনতে বাংলাদেশি হাইকমিশনের প্রদর্শনীতে ভিড় করেছেন। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার হামিদুল্লা রিয়াজ এই শাড়ি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩০০-র বেশি শাড়ি প্রদর্শিত হচ্ছে এই প্রদর্শনীতে। শাড়ি প্রদর্শনীর উদ্বোধনীর সময় সংক্ষিপ্ত ভাষণে বাংলাদেশি হাইকমিশনার হামিদুল্লা রিয়াজ বলেন, 'এটা কিন্তু কোনও কূটনীতি নয়। বরং এটা কারিগরদের উদযাপনের একটি প্রচেষ্টা। আমাদের মানুষের সঙ্গে যুক্ত হবে। কূটনীতিতে আমাদের অনেক দর কষাকষি করতে হয়। তবে এরই সঙ্গে আমাদের একে অপরের প্রতি ভরসা করতে হবে।' এই প্রদর্শনীটি বাংলাদেশের হস্তশিল্পের ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি, ভারত ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রদর্শনী চলবে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সাধারণ জনগণের জন্য খোলা থাকবে প্রদর্শনী কক্ষ।