ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের উত্তেজনা। ত্রিপুরার উনকোটি জেলায় সীমান্তে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিএসএফ জানিয়েছে, একদল সন্দেহভাজন পাচারকারী আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে টহলরত জওয়ানদের উপর হামলার চেষ্টা করেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে অন্য পদ্ধতিতে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত গুলি চালাতে হয় বলে জানিয়েছে বিএসএফ। পরে ঘটনাস্থল থেকে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার মধ্যরাতের পর উনকোটি জেলার মাগরুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৪৭ নম্বর গেটের কাছে এই ঘটনা ঘটে। এলাকাটি সীমান্তের ১৮৪৭ নম্বর বর্ডার পিলারের কাছাকাছি। ওই সময় সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি দল টহল দিচ্ছিল।
উনকোটির পুলিশ সুপার ঋষভ জানিয়েছেন, একদল সন্দেহভাজন পাচারকারী আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে সীমান্তের বেড়ার সামনের দিকে অবস্থান নেয় বলে অভিযোগ। এরপর তারা টহলরত বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার চেষ্টা করে। পুলিশ সুপারের দাবি, ওই দলের কয়েকজনের হাতে লোহার দা এবং ক্রিকেট ব্যাট ছিল। ফলে জওয়ানদের নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি হয়েছিল।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএসএফ প্রথমে গুলি না চালিয়ে অন্য উপায়ে ওই দলটিকে সরে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় এবং জওয়ানদের উপর হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিয়ম মেনে গুলি চালানো হয়। এরপর সন্দেহভাজনরা বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে যায় বলে দাবি পুলিশের।
ঘটনার পর বিএসএফ সদস্যরা এলাকায় তল্লাশি চালান। সেই সময়ই এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর কাছ থেকে এবং ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু সামগ্রীও পাওয়া যায়, যেগুলি ওই সংঘর্ষের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে মৃত ব্যক্তির নাম তারা মিয়া বলে জানা গিয়েছে। বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তিনি বাংলাদেশের দস্তেখি এলাকার বাসিন্দা বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও তাঁর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ফলে মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে সরকারি ভাবে চূড়ান্ত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
{{/usCountry}}ঘটনার পর বিএসএফ সদস্যরা এলাকায় তল্লাশি চালান। সেই সময়ই এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর কাছ থেকে এবং ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু সামগ্রীও পাওয়া যায়, যেগুলি ওই সংঘর্ষের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে মৃত ব্যক্তির নাম তারা মিয়া বলে জানা গিয়েছে। বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তিনি বাংলাদেশের দস্তেখি এলাকার বাসিন্দা বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও তাঁর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ফলে মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে সরকারি ভাবে চূড়ান্ত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
{{/usCountry}}স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, মৃত ব্যক্তি যে দলের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিলেন, তারা মায়ানমারের তৈরি সিগারেট পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। সীমান্ত দিয়ে বেআইনি ভাবে ওই ধরনের পণ্য পারাপারের উদ্দেশ্যেই দলটি ভারতে ঢুকেছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে পুলিশের তরফে এখনও ওই পাচারের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উনকোটির পুলিশ সুপার। সীমান্ত পেরিয়ে কীভাবে ওই দলটি ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করল, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে ঠিক কী পরিস্থিতিতে সংঘর্ষ তৈরি হয়েছিল—এই সমস্ত বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর মাগরুলি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং সন্দেহজনক গতিবিধির উপর বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। বিএসএফ ও স্থানীয় পুলিশ যৌথ ভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে।