...
...
Next Story

'বেইজ্জত হলেন তো...,' নালসার পড়ুয়াদের নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটল বার কাউন্সিল, কটাক্ষ CJPর

Bar Council of India: এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পরই ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি হুঁশিয়ারি দেয়। দিল্লির যন্তর মন্তরের মতো আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'সব আইনসিদ্ধ ককরোচ যদি একসঙ্গে আসে, তা হলে কী হবে?'

Published on: Aug 14, 2026, 11:43:41 IST
Advertisement

Bar Council of India: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) গর্জে উঠতেই একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গেল বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (BCI)। হায়দরাবাদের নালসার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের স্নাতকদের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বিসিআই। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নিল তারা।

নালসার পড়ুয়াদের নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটল বার কাউন্সিল, কটাক্ষ CJPর (ANI Video Grab)
নালসার পড়ুয়াদের নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটল বার কাউন্সিল, কটাক্ষ CJPর (ANI Video Grab)

বৃহস্পতিবার বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া প্রথমে জানিয়েছিল, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হায়দরাবাদের আইন কলেজ ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ-এর (নালসার) ২০২৬ সালের কোনও স্নাতককে রাজ্য বার কাউন্সিলগুলিতে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত করা যাবে না। পরে রাতে সেই সিদ্ধান্ত বদলে জানানো হয়, সব পড়ুয়াই নিজেদের পছন্দের রাজ্য বার কাউন্সিলে নথিভুক্ত হতে পারবেন। নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতা করে পড়ুয়াদের একাংশ প্রচার করে বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই প্রথম নির্দেশ জারি করেছিল বিসিআই।

প্রথম চিঠিতে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র নালসারের উপাচার্য এবং সব রাজ্য বার কাউন্সিলকে জানান, ২০২৬ সালের স্নাতকদের নথিভুক্তি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে ওই প্রচার কে শুরু করেছিলেন, কে তা সংগঠিত করেছিলেন এবং কারা পড়ুয়াদের একত্রিত করেছিলেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়।

সিজেপি-র হুঁশিয়ারি

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার না হলে আইন পড়ুয়া, আইনজীবী, প্রবীণ আইনজীবী এবং তরুণ ককরোচদের নিয়ে বার কাউন্সিলের দফতর, মিশ্রের সরকারি বাসভবন এবং বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ করা হবে। মনন কুমার মিশ্রকে ট্যাগ করে তিনি বলেন, তাঁর 'জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।'

অবস্থান বদল বার কাউন্সিলের

তবে রাতেই অবস্থান বদলায় বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া। নতুন চিঠিতে জানানো হয়, আগের নির্দেশ নিয়ে কাউন্সিল বিস্তারিত আলোচনা করেছে। সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, নালসারের ২০২৬ সালের স্নাতকদের 'বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠ' ওই বিতর্কিত উদ্যোগে যোগ দিতে আগ্রহী ছিলেন না এবং তাঁরা নির্দোষ। সেই কারণেই আগের নির্দেশ সংশোধন করা হয়েছে বলে জানায় কাউন্সিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নালসারের ২০২৬ সালের সব স্নাতকই নিজেদের পছন্দের রাজ্য বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারবেন। অর্থাৎ, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নালসারের ২০২৬ সালের স্নাতকদের উপর জারি করা নথিভুক্তি-নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারতের বার কাউন্সিল। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কাউন্সিল চেয়ারম্যান কর্তৃক জারি করা চিঠি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং পর্যালোচনা হয়েছে। আলোচনার পর সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে ২০২৬-এ উত্তীর্ণ নালসার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই নির্দোষ এবং তাঁরা এই ধরণের অসম্মানজনক পদক্ষেপে অংশ নিতে আগ্রহী ছিলেন না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিসিআই (BCI) আরেকটি চিঠি পাঠায়, যার বিষয়বস্তু ছিল: 'হায়দরাবাদের নালসার (NALSAR) ইউনিভার্সিটি অফ ল-এর বিষয়ে ১৩.০৮.২০২৬ তারিখের BCI:D:5449/2026 নং চিঠিতে উল্লিখিত নির্দেশাবলি—যার মধ্যে তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান এবং ২০২৬ সালে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের তালিকাভুক্তি অন্তর্ভুক্ত—সেগুলোর পুনর্বিবেচনা ও সংশোধন।'

অন্যদিকে, বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (BCI) এবং চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত বদল বা ‘ইউ-টার্ন’ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। তাদের দাবি, ছাত্র আন্দোলনের চাপেই রাত জেগে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়েছেন কর্তৃপক্ষ। মনন কুমার মিশ্রর পোস্টের জবাবে সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ব্যঙ্গ করে লেখেন, 'সিজেপি রাত জাগতে বাধ্য করেছে। তার ওপর যে অপমান হলো, সেটা তো রয়েই গেল।' তবে বিসিআই-এর নির্দেশ প্রত্যাহারে সন্তুষ্ট নয় আন্দোলনকারীরা। সিজেপি-র অপর এক মুখপাত্র সৌরভ দাসের অভিযোগ, বিসিআই-এর আগের নির্দেশটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়নি। বিশেষ করে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের নাম চিহ্নিতকরণ ও তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের যে নির্দেশ রয়েছে, তা এখনও বহাল রয়েছে। মিশ্রকে সরাসরি তোপ দেগে সৌরভ দাস বলেন, 'মিস্টার মিশ্র, নির্দেশ কিন্তু পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি! আপনার নিজের নতুন চিঠিতেই স্পষ্ট যে-শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য পড়ুয়াদের নাম চাওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে 'তদন্ত' চালানোর যে নির্দেশ ছিল, তা এখনও বহাল রয়েছে।'

নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের (NALSAR) শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের জন্য কোনও তদন্ত বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না—বিসিআই-কে এই মর্মে সম্পূর্ণ নির্দেশিকা প্রত্যাহারের পাশাপাশি লিখিত নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সৌরভ দাস। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারতের প্রধান বিচারপতির (CJI) বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের জেরে নালসারের কোনও পড়ুয়াকে যেন হেনস্থা বা প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপের মুখে পড়তে না হয়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিসিআই দফতর ও মিশ্রর বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ জারি থাকবে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে, শুক্রবার সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও সৌরভ দাসের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন বিসিআই চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, বিসিআই এবং আন্দোলনকারী উভয়ের লক্ষ্যই এক—ছাত্রছাত্রীদের অধিকার সুরক্ষিত রাখা।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe