...
...
Next Story

Basmati Rice Tussle: ভারতকে বড় ধাক্কা অস্ট্রেলিয়ার! তাতে খুশি হল পাকিস্তান

অস্ট্রেলিয়া ভারতের জন্য বাসমতীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১৮ সালের অগস্ট পর্যন্ত ভারত অস্ট্রেলিয়ায় তিন লক্ষ টনেরও বেশি বাসমতী চাল রফতানি করেছিল। এই রফতানির আর্থিক মূল্যও ছিল কয়েকশো কোটি ডলার। অন্যদিকে পাকিস্তানও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে বাসমতী চাল রফতানি করে।

Published on: Aug 25, 2026, 11:44:06 IST
Advertisement

অস্ট্রেলিয়ার বাজারে বাসমতী চাল নিয়ে বড় ধাক্কা খেল ভারত। বাসমতী চালের জন্য বিশেষ শংসাপত্র বা বাণিজ্যিক স্বীকৃতি চেয়ে ভারতের আবেদন খারিজ করেছে অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত। এই সিদ্ধান্তে ভারতের বাসমতী রফতানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান এই রায়ে খুশি বলে জানা গিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ভারতের জন্য বাসমতীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার।
অস্ট্রেলিয়া ভারতের জন্য বাসমতীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার।

ভারতের কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা এপিইডিএ অস্ট্রেলিয়ায় বাসমতী চালের জন্য বিশেষ ট্রেডমার্কের স্বীকৃতি চেয়েছিল। এপিইডিএ-র বক্তব্য ছিল, বাসমতী ভারতের বিশেষ ভৌগোলিক পরিচয় বহন করে। তাই এই চালের আলাদা স্বীকৃতি থাকা প্রয়োজন। বাসমতীর জিআই বা ভৌগোলিক পরিচয়ের বিষয়টিও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল।

তবে অস্ট্রেলিয়ার আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তাদের দেশে বাসমতীকে সাধারণ ধরনের চাল হিসেবেও দেখা হয়। ফলে ভারতের চাওয়া বিশেষ বাণিজ্যিক স্বীকৃতি মেলেনি।

এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের একটি বড় অংশের বাসমতী চাল বিদেশের বাজারে বিক্রি হয়। বিশেষ করে পঞ্জাব ও হরিয়ানার বহু কৃষক বাসমতী চাষের উপর নির্ভরশীল। পঞ্জাব একাই দেশের মোট বাসমতী উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়া ভারতের জন্য বাসমতীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১৮ সালের অগস্ট পর্যন্ত ভারত অস্ট্রেলিয়ায় তিন লক্ষ টনেরও বেশি বাসমতী চাল রফতানি করেছিল। এই রফতানির আর্থিক মূল্যও ছিল কয়েকশো কোটি ডলার। অন্যদিকে পাকিস্তানও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে বাসমতী চাল রফতানি করে। ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য এই রায় কিছুটা স্বস্তির। কারণ অস্ট্রেলিয়ার বাজারে ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই চাল বিক্রি করে। ভারতের বিশেষ স্বীকৃতি না পাওয়ায় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পাকিস্তান কিছুটা সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে বাসমতী নিয়ে এই উদ্বেগের মধ্যেই কেন্দ্র গম রফতানির ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার সরকার গম এবং গমজাত পণ্যের রফতানিতে থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এর ফলে ভারত থেকে আবার আন্তর্জাতিক বাজারে গম পাঠানোর পথ খুলে গেল।

দেশে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০২২ সালের মে মাসে গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কেন্দ্র। সেই সময় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারেও গমের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

এবার বিদেশ বাণিজ্য দফতর জানিয়েছে, গমের পাশাপাশি গমের আটা, ময়দা, সুজি এবং গোটা গমের আটার মতো পণ্য রফতানিতেও আর আগের নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। অর্থাৎ গম রফতানির নীতি ‘নিষিদ্ধ’ থেকে ‘মুক্ত’ করা হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই সরকার ২৫ লক্ষ টন গম রফতানির অনুমতি দিয়েছিল। এবার পুরো রফতানি নীতি আরও সহজ করা হল। ফলে কৃষক এবং রফতানিকারকদের জন্য নতুন বাজার তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে বাসমতী নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রায়ের কারণে ভারতীয় চাল রফতানিকারকদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে রফতানির নতুন সুযোগ—দুইয়ের মধ্যেই এখন পথ খুঁজতে হবে ভারতীয় কৃষি ও রফতানি মহলকে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe