অস্ট্রেলিয়ার বাজারে বাসমতী চাল নিয়ে বড় ধাক্কা খেল ভারত। বাসমতী চালের জন্য বিশেষ শংসাপত্র বা বাণিজ্যিক স্বীকৃতি চেয়ে ভারতের আবেদন খারিজ করেছে অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত। এই সিদ্ধান্তে ভারতের বাসমতী রফতানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান এই রায়ে খুশি বলে জানা গিয়েছে।

ভারতের কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা এপিইডিএ অস্ট্রেলিয়ায় বাসমতী চালের জন্য বিশেষ ট্রেডমার্কের স্বীকৃতি চেয়েছিল। এপিইডিএ-র বক্তব্য ছিল, বাসমতী ভারতের বিশেষ ভৌগোলিক পরিচয় বহন করে। তাই এই চালের আলাদা স্বীকৃতি থাকা প্রয়োজন। বাসমতীর জিআই বা ভৌগোলিক পরিচয়ের বিষয়টিও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল।
তবে অস্ট্রেলিয়ার আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তাদের দেশে বাসমতীকে সাধারণ ধরনের চাল হিসেবেও দেখা হয়। ফলে ভারতের চাওয়া বিশেষ বাণিজ্যিক স্বীকৃতি মেলেনি।
এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের একটি বড় অংশের বাসমতী চাল বিদেশের বাজারে বিক্রি হয়। বিশেষ করে পঞ্জাব ও হরিয়ানার বহু কৃষক বাসমতী চাষের উপর নির্ভরশীল। পঞ্জাব একাই দেশের মোট বাসমতী উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া ভারতের জন্য বাসমতীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১৮ সালের অগস্ট পর্যন্ত ভারত অস্ট্রেলিয়ায় তিন লক্ষ টনেরও বেশি বাসমতী চাল রফতানি করেছিল। এই রফতানির আর্থিক মূল্যও ছিল কয়েকশো কোটি ডলার। অন্যদিকে পাকিস্তানও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে বাসমতী চাল রফতানি করে। ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার আদালতের এই রায় নিয়ে ভারতীয় রফতানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাসমতী রফতানিকারক সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, বাসমতী ভারতের কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর বিশেষ সুগন্ধ, দানার আকার এবং গুণমান আন্তর্জাতিক বাজারে আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। তাই বিদেশের বাজারে এর স্বীকৃতি আরও শক্তিশালী করা দরকার।
{{/usCountry}}বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার আদালতের এই রায় নিয়ে ভারতীয় রফতানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাসমতী রফতানিকারক সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, বাসমতী ভারতের কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর বিশেষ সুগন্ধ, দানার আকার এবং গুণমান আন্তর্জাতিক বাজারে আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। তাই বিদেশের বাজারে এর স্বীকৃতি আরও শক্তিশালী করা দরকার।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য এই রায় কিছুটা স্বস্তির। কারণ অস্ট্রেলিয়ার বাজারে ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই চাল বিক্রি করে। ভারতের বিশেষ স্বীকৃতি না পাওয়ায় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পাকিস্তান কিছুটা সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে বাসমতী নিয়ে এই উদ্বেগের মধ্যেই কেন্দ্র গম রফতানির ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার সরকার গম এবং গমজাত পণ্যের রফতানিতে থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এর ফলে ভারত থেকে আবার আন্তর্জাতিক বাজারে গম পাঠানোর পথ খুলে গেল।
দেশে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০২২ সালের মে মাসে গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কেন্দ্র। সেই সময় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারেও গমের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
এবার বিদেশ বাণিজ্য দফতর জানিয়েছে, গমের পাশাপাশি গমের আটা, ময়দা, সুজি এবং গোটা গমের আটার মতো পণ্য রফতানিতেও আর আগের নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। অর্থাৎ গম রফতানির নীতি ‘নিষিদ্ধ’ থেকে ‘মুক্ত’ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই সরকার ২৫ লক্ষ টন গম রফতানির অনুমতি দিয়েছিল। এবার পুরো রফতানি নীতি আরও সহজ করা হল। ফলে কৃষক এবং রফতানিকারকদের জন্য নতুন বাজার তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে।
তবে বাসমতী নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রায়ের কারণে ভারতীয় চাল রফতানিকারকদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে রফতানির নতুন সুযোগ—দুইয়ের মধ্যেই এখন পথ খুঁজতে হবে ভারতীয় কৃষি ও রফতানি মহলকে।