বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই প্রথম বিদেশ সফর হিসাবে চিনকে গন্তব্য করেছিলেন তারেক রহমান। পরবর্তীতে তাঁর ভারত সফর নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন ঢাকা জানিয়েছে সেপ্টেম্বরে ভারত সফর করবেন না তারেক। সেই মতো দিল্লিতে ব্রিকস চলাকালে ভারতে আসেননি তারেক। পরবর্তীতে তিনি গিয়েছেন আমেরিকায়। তাঁর সফর হওয়ার কথা রয়েছে সৌদি ও পাকিস্তানের বন্ধু দেশ তুরস্কেও। এবার তিনি সফর করতে চলেছেন জাপানে। ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সফর করতে চলেছেন তারেক রহমান। তবে, তারেক রহমানের জাপান সফরের আগে, জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলিকে হঠাৎই দেশে ফিরিয়ে নিল ঢাকা। এমন ঘটনা বিরল, বলে দাবি করছে বাংলাদেশের বহু সংবাদমাধ্যম। তবে হঠাৎই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঠিক আগে, সেদেশের রাষ্ট্রদূতকে কেন ফিরিয়ে নিল বাংলাদেশ, তা নিয়ে উঠছে বহু প্রশ্ন।
ঢাকা পোস্টের খবর অনুযায়ী, একটি সূত্র তথ্য নিশ্চিত করেছে, মো. দাউদ আলির ঢাকায় ফেরার ঘটনাটি । সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকার বিদেশমন্ত্রক, জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলিকে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রকের নির্দেশনা পেয়ে টোকিও থেকে ইতিমধ্যে ঢাকায় ফিরেছেন রাষ্ট্রদূত দাউদ আলি। তিনি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। রিপোর্টে, সূত্র উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রদূত দাউদ আলির অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) মো. নজরুল ইসলাম টোকিওতে অবস্থান করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা তদারকি করবেন। অর্পিত দায়িত্ব পালনে বুধবার (২২ অক্টোবর) টোকিও যান সচিব নজরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। হঠাৎ বাংলাদেশের সরকারের তরফে, এই সিদ্ধান্ত ঘিরে, নানান প্রশ্ন উঠছে।
ইতিমধ্যেই সৌদিকে বাংলাদেশের ২ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডে শিরোচ্ছেদের ঘটনায় ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে বাংলাদেশ জুড়ে। সৌদিতে বাংলাদেশের কনস্যুলেটের ভূমিকা নিয়ে মৃত্যুদণ্ডে প্রয়াত নজরুলের বাবা প্রশ্ন তুলেছেন বলেও রিপোর্টে প্রকাশ হয়। নজরুলের বাবা আবদুল বশির বলেন, , ‘কারাগারে থাকার সময় ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না। সে জানিয়েছে, কেউ যোগাযোগ করেনি। প্রতিটি দেশের কনস্যুলেট কারাগারে থাকা নাগরিকদের খোঁজ নেয়। অথচ আমাদের দেশের কনস্যুলেট তার কোনো খোঁজ নেয়নি।’ এমন এক পরিস্থিতিতে জাপানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঠিক আগে, টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে সেখান থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার নেপথ্য কারণ নিয়ে চলছে জল্পনা।