শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে ২০২৬ মহিলা এশিয়া কাপের খেতাব জিতল ভারত। এই জয়ের সঙ্গে রেকর্ড অষ্টমবার এশিয়া কাপ নিজেদের ঘরে তুলল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ফাইনালে একতরফা দাপট দেখাল হরমনপ্রীত কৌরের দল। ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি গ্যালারিতে ভারতীয় সমর্থকদের উপস্থিতি নিয়ে নিজের অনুভূতি জানালেন বাংলার উইকেটকিপার-ব্যাটার রিচা ঘোষ।

ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান তোলে। ইনিংসের শুরুতেই বড় রানের ভিত গড়ে দেন শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মন্ধানা। দুই ওপেনারের অর্ধশতরানের ইনিংস ভারতের স্কোরকে দ্রুত এগিয়ে দেয়। শেফালি করেন ৬৮ রান এবং মন্ধানার ব্যাট থেকে আসে ৫৯ রান। তাঁদের জুটির সুবাদে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে ভারতের হাতে।
তবে ইনিংসের মাঝপথে উইকেট কিছুটা ধীর হয়ে যাওয়ায় ব্যাটিংয়ের গতি খানিকটা কমে যায়। রিচা ঘোষও ম্যাচের পর সেই বিষয়টির কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, শুরুতে বল ভালোভাবে ব্যাটে আসছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উইকেটের চরিত্র বদলে যায়। সেই পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিয়েই ভারতীয় ব্যাটারদের রান তুলতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৮৩ রানের লড়াইয়ের মতো স্কোর দাঁড় করাতে সফল হয় ভারত।
রিচার বক্তব্যে উঠে এসেছে ফাইনালের চাপের মধ্যেও দলের ব্যাটারদের দায়িত্বশীল মানসিকতা। তাঁর মতে, প্রত্যেক ক্রিকেটারকে দলের দেওয়া নির্দিষ্ট ভূমিকা অনুযায়ী খেলতে হয়েছে। নিজের দায়িত্ব অনুযায়ী কিছু রান যোগ করতে পারলে সেটাই দলের কাজে আসে। সেই জায়গা থেকে নিজের ভূমিকা পালন করতে পেরে খুশি বাংলার এই তারকা ক্রিকেটার।
ভারতের বড় স্কোরের জবাবে অবশ্য শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ একেবারেই দাঁড়াতে পারেনি। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে মাত্র ১১১ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ফলে ৭২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারত। ভারতের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন শ্রী চরণী। মাত্র ২২ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন চারটি উইকেট। দীপ্তি শর্মাও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনটি উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার রান তাড়ার আশা শেষ করে দেন।
{{/usCountry}}ভারতের বড় স্কোরের জবাবে অবশ্য শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ একেবারেই দাঁড়াতে পারেনি। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে মাত্র ১১১ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ফলে ৭২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারত। ভারতের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন শ্রী চরণী। মাত্র ২২ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন চারটি উইকেট। দীপ্তি শর্মাও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনটি উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার রান তাড়ার আশা শেষ করে দেন।
{{/usCountry}}ফাইনালের ফলাফল যেমন ভারতীয় দলের আধিপত্য স্পষ্ট করেছে, তেমনই গ্যালারির পরিবেশও রিচার ঘোষদের বাড়তি উৎসাহ দিয়েছে। ম্যাচের পর রিচা বলেন, ভারতীয় সমর্থকরা যেভাবে মাঠে এসে দলকে সমর্থন করেছেন, তা অসাধারণ অনুভূতি তৈরি করেছিল। তাঁদের গলা ফাটানো সমর্থন দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে মনে করেন তিনি।
একটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে ঘরের মাঠের মতো সমর্থন পাওয়া যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, রিচার কথাতেই তার ইঙ্গিত মিলেছে। গ্যালারিতে ভারতীয় সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এবং মাঠে ক্রিকেটারদের আগ্রাসী মনোভাব—দুইয়ের মিলেই ফাইনাল হয়ে উঠেছিল স্মরণীয়।
রেকর্ড অষ্টম এশিয়া কাপ জয়ের পর অবশ্য এখনই উদযাপনের পরিকল্পনা করেননি রিচা। তাঁর কথায়, ম্যাচ সবে শেষ হয়েছে, তাই এই মুহূর্তে সেলিব্রেশন নিয়ে ভাবার সময়ই পাওয়া যায়নি। পরে দলের সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই উদযাপনের পরিকল্পনা করা হবে।
তবে পরিকল্পনা পরে হলেও সাফল্যের আনন্দ শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্যাটে শেফালি-মন্ধানার দাপট, বল হাতে শ্রী চরণী-দীপ্তিদের দুরন্ত পারফরম্যান্স এবং পুরো দলের সম্মিলিত লড়াইয়ে ভারত ফের এশিয়ার সেরা। আর সেই ঐতিহাসিক জয়ের সাক্ষী হয়ে বাংলার রিচা ঘোষের মুখেও ধরা পড়ল গর্ব এবং আনন্দ।