...
...
Next Story

অভাবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়! রাজস্থান রয়্যালসে সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত বাংলার সৌমেন

সীমিত আয়ের সংসার চালিয়েও বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অর্থ সঞ্চয় করে ছেলের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন তাঁর মা।

Published on: Mar 3, 2026, 20:25:37 IST
Advertisement

বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামের এক ট্রাক্টর চালকের ছেলে সৌমেন চট্টোপাধ্যায়। গ্রামের মেঠো রাস্তায় চলত তাঁর দৌড় প্র্যাকটিস। দু’বেলা অন্ন জোটেনি কোনওদিন। তবে তাঁর অনুশীলন থামেনি। মিডল স্ট্যাম্প ছিটকে দেওয়ার অদম্য জেদ। এবার সেই রাইট আর্ম ফাস্ট মিডিয়াম বোলার সৌমেন চট্টোপাধ্যায় স্বপপূরণের প্রথম ধাপে। পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না ব্লকের পলাশন অঞ্চলের বাঁশা গ্রামের যুবক সুযোগ পেয়েছে আইপিএল-এর রাজস্থান রয়্যালসে। তবে এই জায়গায় পৌঁছনোর পথটা একদমই মসৃণ ছিল না।

রাজস্থান রয়্যালসে সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত বাংলার সৌমেন
রাজস্থান রয়্যালসে সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত বাংলার সৌমেন

ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল সৌমেন চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর বাবা সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় পেশায় ট্রাক্টর চালক ও গ্রামীণ পূজারী, মা শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায় গৃহবধূ। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পরিবার তাঁর স্বপ্নপূরণে সব সময় পাশে দাঁড়িয়েছে। সীমিত আয়ের সংসার চালিয়েও বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অর্থ সঞ্চয় করে ছেলের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন তাঁর মা। ছেলের কাঁধে হাত রেখে বাবা ভরসা জুগিয়েছেন, ছেলেকে সবসময়েই বলতেন, ‘তুই খেলে যা। সংসারের কথা ভাবতে হবে না।’ কলকাতার সুপার ডিভিশনের ক্লাব ডালহৌসির নিয়মিত বোলার সৌমেন। এখন আইপিএলে সুযোগ পাওয়ায় স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত তাঁর সতীর্থরাও। উচ্ছ্বসিত সৌমেন নিজেও। খুশি প্রতিবেশীরাও।

একেবারে দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা সৌমেনের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া বইছে গোটা এলাকাজুড়েই। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন এবং অদম্য মনোবলের জোরেই তিনি এই বড় মঞ্চে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন বলেই মত প্রতিবেশীদের। গ্রামবাংলার সাধারণ পরিবেশ থেকে জাতীয় স্তরের এই প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য বলেই মনে করছেন ক্রীড়ামহল। তবে আইপিএলে সুযোগ পাওয়ার রাস্তাটা এতটাও সহজ ছিল না। সৌমেন বলছেন, 'ভুবনেশ্বরে একটি ক্যাম্প হয়েছিল। সেখানেই আমি এই সুযোগ পেয়েছি। গতবার তিনজনকে নির্বাচন করা হয়েছিল। অল্পের জন্য আমি সুযোগ পাইনি। আমার বলের গতি তিন চার কিলোমিটার কম ছিল। এবারও তিনজনকে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আমি একজন।' তবে সৌমেন চোখে শুধু আইপিএল নয়, খেলতে চান ভারতীয় দলে। তিনি বলছেন, 'বোলার হয়ে সুযোগ পেয়ে অনেকেই আইপিএল খেলছে। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছে। তাই আমিও যাতে সেই সুযোগ পাই সেই লক্ষ্যে পরিশ্রম করে যাব।'

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe