মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আবহ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই হঠাৎ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবুধাবিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। রবিবার এই সফর ছিল অনেকটাই গোপন। আগাম কোনও সরকারি ঘোষণা ছিল না। বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে অবশ্য এখনও মুখ খোলেনি ইজরায়েল বা আমিরশাহি। ফলে নেতানিয়াহুর আচমকা আবুধাবি সফর নিয়ে কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ব্যক্তিগত বিমানে আবুধাবি যান এবং সেখানে কয়েক ঘণ্টা ছিলেন। পরে দুই দেশের নেতার বৈঠক হয়। তবে সফরের বিষয়ে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দফতর বা আমিরশাহির বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে বৈঠকের আসল উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে এই সফরের সময় নিয়ে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে অন্য একটি কারণে। সম্প্রতি ইজরায়েলের সংবাদপত্র হারেৎজ দাবি করে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রায় ১০ দিন আগে আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে ফোন করে বড়সড় হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। সংবাদপত্রটির দাবি, হামাস ইজরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালাতে পারে বলে ওই সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে বলা হয়, সেই তথ্য ইজরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে পৌঁছয়নি।
হারেৎজের এই রিপোর্ট অবশ্য নেতানিয়াহু অস্বীকার করেছেন। ওই সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। আমিরশাহিও সরাসরি ওই অভিযোগ স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। তবে আবুধাবির তরফে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির পর থেকে ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগ বজায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে শেখ মহম্মদের বৈঠক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইজরায়েলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা নিয়ে নেতানিয়াহুকে লক্ষ্য করে বিরোধীদের সমালোচনা চলছে। এর মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি সতর্কবার্তা পাওয়ার পরেও যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়েছে।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে শেখ মহম্মদের বৈঠক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইজরায়েলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা নিয়ে নেতানিয়াহুকে লক্ষ্য করে বিরোধীদের সমালোচনা চলছে। এর মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি সতর্কবার্তা পাওয়ার পরেও যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়েছে।
{{/usCountry}}আসলে এই সফর নেতানিয়াহুর প্রথম গোপন আবুধাবি সফর নয়। চলতি বছরের মে মাসেও তাঁর দফতর দাবি করেছিল, ইরান যুদ্ধের সময় তিনি গোপনে আমিরশাহি গিয়ে শেখ মহম্মদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তখন আমিরশাহির প্রশাসন সেই দাবি অস্বীকার করেছিল। পরে জানা যায়, ২৬ মার্চ আল আইন শহরে দুই নেতার দেখা হয়েছিল বলে একটি সূত্র জানিয়েছিল।
২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির পর ইজরায়েল এবং আমিরশাহির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়। তার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আবহে সেই যোগাযোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
তবে রবিবারের বৈঠকে গাজা, ইরান, হামাস নাকি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে নেতানিয়াহুর এই আচমকা সফরের আসল বার্তা কী, সেটাই এখন কূটনৈতিক মহলের নজরে।