...
...
Next Story

Vijay Mallya Latest Update: ‘অন্যায় সহ্য করতে করতে ককরোচ হয়ে যাব?’ বিস্ফোরক বিজয় মাল্য, নিশানায় ভারত সরকার

লন্ডনে থাকা বিতর্কিত ব্যবসায়ী বিজয় মাল্য ফের ভারত সরকারের বিরুদ্ধে ‘অন্যায়ের’ অভিযোগ তুললেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যে পরিস্থিতির মধ্যে তিনি রয়েছেন, তাতে তাঁর মনে হচ্ছে তিনি যেন ‘ককরোচ’ হয়ে যান।

Published on: Sep 10, 2026, 09:44:11 IST
Advertisement

Vijay Mallya Latest Update: লন্ডনে থাকা বিতর্কিত ব্যবসায়ী বিজয় মাল্য ফের ভারত সরকারের বিরুদ্ধে ‘অন্যায়ের’ অভিযোগ তুললেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যে পরিস্থিতির মধ্যে তিনি রয়েছেন, তাতে তাঁর মনে হচ্ছে তিনি যেন ‘ককরোচ’ হয়ে যান। বুধবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে এমনই মন্তব্য করেছেন তিনি। মাল্যের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

‘ককরোচ’ মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

লন্ডনে থাকা বিতর্কিত ব্যবসায়ী বিজয় মাল্য ফের ভারত সরকারের বিরুদ্ধে ‘অন্যায়ের’ অভিযোগ তুললেন। (HT_PRINT)
লন্ডনে থাকা বিতর্কিত ব্যবসায়ী বিজয় মাল্য ফের ভারত সরকারের বিরুদ্ধে ‘অন্যায়ের’ অভিযোগ তুললেন। (HT_PRINT)

এক্স-এ পোস্ট করে মাল্য লেখেন, তাঁর সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে, তা মনে রেখে তিনি ভাবছেন, ককরোচ হয়ে গেলে হয়তো জীবন আরও ভাল হবে। মাল্যের এই মন্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে উঠে আসা ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির প্রসঙ্গও জড়িয়ে রয়েছে। সংগঠনটি মে মাসে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে পথচলা শুরু করেছিল। পরে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সিজেপির প্রথম আন্দোলন বড় সাড়া ফেলেছিল। সেই আন্দোলনের পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন বলে মাল্যের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৪ হাজার কোটি টাকা ফেরতের দাবি

একই সময়ে মাল্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-কে নিয়েও বড় দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বম্বে হাই কোর্টে জমা দেওয়া একটি হলফনামায় ইডি স্বীকার করেছে যে তাঁর কাছ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেই টাকা তিনি যে ব্যাঙ্কগুলির কাছে দায়বদ্ধ ছিলেন, তাদের দেওয়া হয়েছে। মাল্য বলেন, মানুষ তাঁর কথা বিশ্বাস না করলেও আদালতে জমা দেওয়া ইডির নথির বক্তব্য যেন যাচাই করা হয়। তবে তাঁর এই দাবির প্রেক্ষাপট নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং মাল্যের বক্তব্যের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি ও আর্থিক বিতর্ক রয়েছে।

‘স্থায়ী বাসিন্দা, নাগরিক নই’

এর আগেও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বম্বে হাই কোর্টে মাল্য জানিয়েছিলেন, তিনি কবে ভারতে ফিরবেন তা নির্দিষ্ট করে বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ছাড়ার ক্ষেত্রে তাঁর উপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের নথি নিয়েও বিধিনিষেধ রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

কিংফিশার কর্মীদের টাকা দেওয়ার দাবিও

আর একটি পোস্টে মাল্য দাবি করেছেন, ইডি তাঁর বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ও অর্থের মধ্যে থেকে ৩৫০ কোটি টাকারও বেশি ছেড়ে দিয়েছিল কিংফিশার এয়ারলাইন্সের কর্মীদের বেতন বা পাওনা মেটানোর জন্য। মাল্যের বক্তব্য, তাঁর সম্পত্তি ও অর্থ ইডি সংযুক্ত করে রাখার কারণেই তিনি নিজে সেই টাকা কর্মীদের দিতে পারেননি। তাই ইডির মাধ্যমে সেই অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। মাল্য একই সঙ্গে তাঁর সমালোচকদের নিজের বক্তব্য স্বাধীন ভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন।

কেন বিজয় মাল্যকে নিয়ে এত বিতর্ক?

কিংফিশার এয়ারলাইন্সের ঋণ এবং আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত একাধিক মামলায় মাল্য দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি, প্রতারণা, অর্থপাচার এবং আর্থিক অনিয়মের মতো অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে কিংফিশার এয়ারলাইন্সের ঋণ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই-এর ব্যাঙ্কিং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ফ্রড সেল একটি এফআইআর করে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসভঙ্গ এবং অন্য আর্থিক অনিয়মের মামলা হয়। এরপর ২০১৬ সালের মার্চে মাল্য ভারত ছেড়ে ব্রিটেনে চলে যান। তারপর থেকে তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনা এবং তাঁর সম্পত্তি ও বকেয়া টাকা উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলছে ভারত ও ব্রিটেন—দুই দেশেই।

আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই একের পর এক দাবি

একদিকে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি মাল্যের বিরুদ্ধে থাকা মামলা এবং অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। অন্যদিকে মাল্য নিয়মিত সমাজমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন। তিনি বারবার দাবি করছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ভারত সরকারের পদক্ষেপ ‘অন্যায়’। একই সঙ্গে তিনি কত টাকা উদ্ধার হয়েছে, কোথায় সেই টাকা ব্যবহার করা হয়েছে এবং কেন তিনি ভারতে ফিরতে পারছেন না—এসব বিষয় নিয়ে নিজের বক্তব্য সামনে আনছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা মাল্য-সংক্রান্ত বিতর্কে নতুন করে যোগ হয়েছে তাঁর ‘ককরোচ’ মন্তব্য। তবে তাঁর বিভিন্ন দাবির চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে চলমান আইনি প্রক্রিয়া এবং আদালতের সিদ্ধান্ত।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks