জামুইয়ের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার সমষ্টিপুর। এ বারও প্রকাশ্যে রাস্তায় এক তরুণীকে হেনস্থার অভিযোগ উঠল। ঘটনাটির একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। বুধবার সমষ্টিপুরের কর্পূরীগ্রাম থানা এলাকার জগৎসিংহপুর গ্রামের বাঁধ বাইপাস রোডে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। ভিডিয়ো সামনে আসার পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োটির সত্যতা এখনও স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণী এক যুবকের সঙ্গে বাইপাস রোড দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে দু’জনে কিছু ক্ষণের জন্য রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন। সেই সময় কয়েক জন যুবক সেখানে এসে তরুণীকে ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ। এর পর শুরু হয় অশালীন মন্তব্য এবং দুর্ব্যবহার। ভিডিয়োয় তরুণীকে টানাহেঁচড়া করতে এবং তাঁর সঙ্গে অভব্য আচরণ করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযুক্তেরা তাঁর নাম ও বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত কোনও এক ব্যক্তি মোবাইলে ভিডিয়োটি রেকর্ড করেন। পরে সেটিই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। সমষ্টিপুরের পুলিশ সুপার অরবিন্দ প্রতাপ সিংহ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ভিডিয়োর ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত দু’জন যুবকের পরিচয় মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনায় আরও কারা যুক্ত ছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কয়েক দিন আগেই বিহারের জামুইয়ে এক নাবালিকা ও তাঁর সঙ্গীকে রাস্তায় আটকে হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। পুলিশ ইতিমধ্যে ওই মামলায় একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং তদন্তের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদবকে গ্রেফতারের পর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তাঁর পায়ে গুলি লাগে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
{{/usCountry}}ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কয়েক দিন আগেই বিহারের জামুইয়ে এক নাবালিকা ও তাঁর সঙ্গীকে রাস্তায় আটকে হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। পুলিশ ইতিমধ্যে ওই মামলায় একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং তদন্তের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদবকে গ্রেফতারের পর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তাঁর পায়ে গুলি লাগে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
{{/usCountry}}জামুইয়ের ঘটনার পর সমষ্টিপুরের এই ভিডিয়ো নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, জনবহুল বা প্রকাশ্য জায়গায় মহিলাদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে। স্থানীয় কয়েক জনের বক্তব্য, বাইপাস সংলগ্ন কিছু এলাকায় সন্ধ্যার পর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। যদিও স্থানীয়দের এই বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই হয়নি।
পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, সমষ্টিপুরের ঘটনায় তদন্ত চলছে। ভিডিয়োয় যাঁদের দেখা গিয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত সময়, স্থান এবং পরিস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সঙ্গে ভিডিয়োর তথ্য কতটা মেলে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব দিক নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না প্রশাসন।
এ দিকে সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়লেও ভুক্তভোগী তরুণীর পরিচয় প্রকাশ না করার বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ যে কোনও তথ্য যাচাই করে দেখছে। ফলে জামুইয়ের পর সমষ্টিপুরে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় বিহারে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।