বিহারের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র মন্দর হিলে এক তরুণীর সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং তাঁর পুরুষ সঙ্গীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তা সামনে আসতেই নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে বিহারে। গত এক সপ্তাহে এই ধরনের একাধিক ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বাঁকা জেলার মন্দর হিলের ঘটনায় ছয় অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, পর্যটনকেন্দ্রে তরুণী এবং তাঁর বন্ধুকে ঘিরে ওই যুবকেরা অশালীন আচরণ করেন। ভিডিয়োতে কয়েক জনকে তরুণীকে উত্ত্যক্ত করতে এবং তাঁকে চটি দিয়ে মারতে দেখা গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এক যুবককে হুমকি দিতেও দেখা যায়।
ঘটনার খবর প্রথমে পুলিশের কাছে সরাসরি পৌঁছয়নি। সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর ২২ সেপ্টেম্বর বউনসি থানার পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। এরপরই শুরু হয় তদন্ত। পরে পুলিশ মন্দর হিলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে। ভিডিয়োটি তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে রাখা হয়েছে।
দায়ের হওয়া এফআইআরে ছয় অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের বিরুদ্ধে তরুণীর সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং আপত্তিকর কার্যকলাপের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পুরো ঘটনাটি ভিডিয়ো করে পরে তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ এখনও ভিডিয়োয় দেখা যুবকদের এবং আক্রান্ত তরুণীকে শনাক্ত করতে পারেনি।
তদন্তের অংশ হিসেবে মন্দর হিলের আশপাশের গ্রামগুলিতে খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দা এবং দোকানদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে অভিযুক্তদের পরিচয় বা ঘটনার বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}তদন্তের অংশ হিসেবে মন্দর হিলের আশপাশের গ্রামগুলিতে খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দা এবং দোকানদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে অভিযুক্তদের পরিচয় বা ঘটনার বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}বউনসি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক পঙ্কজ কুমার ঝা জানিয়েছেন, তাঁর নিজের বক্তব্যের ভিত্তিতেই ছয় অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োটিকে তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ হিসেবে দেখছে। এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৪, ৭৫, ৭৬ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ই এবং ৬৭এ ধারাও যোগ করা হয়েছে।
মন্দর হিলের ঘটনার আগে বিহারে একই ধরনের আরও দু’টি ঘটনা ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। বুধবার সমষ্টিপুরে এক কিশোরী এবং এক যুবককে প্রকাশ্যে হেনস্থার ভিডিয়ো সামনে আসার পর চার জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভিডিয়োতে তরুণীকে ঘিরে শারীরিক হেনস্থা এবং অশালীন আচরণের অভিযোগ দেখা যায়। আক্রান্ত তরুণীকে এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাই স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা করে তদন্ত শুরু করা হয়।
তারও কয়েক দিন আগে জামুই জেলায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হেনস্থা এবং তাঁর পুরুষ সঙ্গীকে মারধরের অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই ঘটনার ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। পর পর এই ধরনের ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসায় বিহারে মহিলাদের নিরাপত্তা এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে নজরদারি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মন্দর হিলের ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।