তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দলের একাংশ এনসিপিআই-এ (NCPI) যোগদানের ঘোষণা করার পরও তৃণমূলের প্রতীক ও পরিচয় ধরে রাখার দাবি তুলেছেন বিদ্রোহীরা। আর সেই দাবিকেই সরাসরি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও বিজেপি নেতা মহেশ জেঠমালানি। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেঠমালানি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোনও সাংসদ যদি অন্য একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে একইসঙ্গে আগের দলের পরিচয় ও নির্বাচনী প্রতীকের ওপর দাবি বজায় রাখতে পারেন না।

বিজেপি নেতার কথায়, ‘একসঙ্গে দুই নৌকায় চড়া সম্ভব নয়।’ এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তৃণমূলের একদল বিদ্রোহী সাংসদ এনসিপিআই-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে একইসঙ্গে তাঁদের দাবি, তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে যাননি এবং ভবিষ্যতেও তৃণমূলের প্রতীকেই নির্বাচনে লড়তে চান। এই অবস্থানকে আইনি দিক থেকে দুর্বল বলে মনে করছেন জেঠমালানি।
তাঁর মতে, ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইনের আলোকে কোনও দলবদল বা একীভূতকরণের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে। যদি সাংসদরা সত্যিই অন্য দলে যোগ দেন, তাহলে তাঁদের পক্ষে আগের দলের প্রতীক বা পরিচয়ের দাবি করা কঠিন হবে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক ও আইনি পরীক্ষার মুখোমুখি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এদিকে বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাঁরা তৃণমূলের আদর্শ থেকে সরে যাননি, বরং দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রকৃত তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব তাঁরাই করছেন। এমনকি লোকসভায় ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছেন বিদ্রোহীরা।
অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিদ্রোহকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের একাংশও মনে করছেন, দলীয় প্রতীক, সাংসদ পদ এবং দলত্যাগ বিরোধী আইনকে ঘিরে আগামী দিনে এই সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরের এই সংকট শুধু পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ অবস্থান এবং লোকসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
{{/usCountry}}অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিদ্রোহকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের একাংশও মনে করছেন, দলীয় প্রতীক, সাংসদ পদ এবং দলত্যাগ বিরোধী আইনকে ঘিরে আগামী দিনে এই সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরের এই সংকট শুধু পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ অবস্থান এবং লোকসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
{{/usCountry}}