NEET paper leak issue: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দিল্লির যন্তর মন্তরে ৩৭ দিন ধরে চলা জেন-জি আন্দোলনের হট্টগোল পৌঁছেছে বিজেপি নেতা-নেত্রীদের অন্দরমহলে। বহু বিজেপি নেতার সন্তানরাও এই প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্নতম উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সিংয়ের কন্যা যশস্বিনী রাজে সিংও জেন জি আন্দোলনকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন।

ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের প্রতিবাদে গত মে মাসে ব্যঙ্গাত্মক বা রসাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে অভিজিৎ দীপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গড়ে তুলেছিলেন। তবে দেখতে দেখতে মাত্র ৭০ দিনের মধ্যে এই প্ল্যাটফর্মটিই ভারতের তরুণ বা 'জেন জি' প্রজন্মকে এক সুতোয় বেঁধে একটি শক্তিশালী আন্দোলনে রূপ নেয়। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পেছনে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দায় রয়েছে দাবি করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে অটল ছিলেন তরুণ আন্দোলনকারীরা। সরকারের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে যত দেরি হচ্ছিল, প্রতি মুহূর্তে আন্দোলনকারীদের ভিড় তত বাড়ছিল। অবশেষে গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সিজেপি-ও তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।
বিজেপির প্রাক্তন বিধায়কের কন্যার সমর্থন
যশস্বিনী রাজে সিং কাতার ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরার সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এই পদত্যাগকে নির্ণায়ক হিসেবে দেখাটা খুবই অদূরদর্শী। পদত্যাগের ভাষায় কোনও অনুশোচনা নেই। কোনও জবাবদিহিতাই নেই। ভাষাটা এমন যেন তিনি শহিদ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।' ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উত্থানের প্রসঙ্গে বিজেপি নেতার কন্যা বলেন, 'সিজেপি আধুনিক যুগের বার্তা মাধ্যম যেমন মিম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কন্টেন্টের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক অরাজনৈতিক মানুষকে একত্রিত করার দারুণ কাজ করেছে, যারা সাধারণত এই ধরনের আলোচনা এড়িয়ে চলেন।' তাঁর মতে, 'সিজেপি-র মূল ফোকাস ছিল ইনস্টাগ্রামে, এই পদ্ধতি বেশ চমৎকার, কারণ সেখানেই আমরা বিক্ষোভের ব্যাপক প্রচার দেখেছি। অবশ্য যাকে এখন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, সত্যি বলতে, তাঁকে নিয়োগ করা সরকারের তরফ থেকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে করা একটা জঘন্য রসিকতা বলে মনে হচ্ছে।'
বিজেপির সঙ্গে তাঁর বাবার সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক প্রস্থান প্রসঙ্গে যশস্বিনী সিং বলেন, 'আমি নিজেকে ভণ্ড বলে মনে করি না। আমি আর্থিকভাবে কারও ওপর নির্ভরশীল নই। আমি নিজের মতো থাকি। আমি গত সাড়ে তিন বছর ধরে ভারতেই আছি এবং একাই বসবাস করছি।' তিনি আরও বলেন, 'আমি ওই ধরনের পরিবেশে একেবারেই জড়াতে চাই না। আমি বহু বছর ফতেহপুরে যাইনি। তাই, আমি এসব থেকে নিজেকে অনেক দূরে রাখি, এবং সেই কারণেই আমি নিজেকে ভণ্ড মনে না করে এসব বলতে পারছি।'
{{/usCountry}}বিজেপির সঙ্গে তাঁর বাবার সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক প্রস্থান প্রসঙ্গে যশস্বিনী সিং বলেন, 'আমি নিজেকে ভণ্ড বলে মনে করি না। আমি আর্থিকভাবে কারও ওপর নির্ভরশীল নই। আমি নিজের মতো থাকি। আমি গত সাড়ে তিন বছর ধরে ভারতেই আছি এবং একাই বসবাস করছি।' তিনি আরও বলেন, 'আমি ওই ধরনের পরিবেশে একেবারেই জড়াতে চাই না। আমি বহু বছর ফতেহপুরে যাইনি। তাই, আমি এসব থেকে নিজেকে অনেক দূরে রাখি, এবং সেই কারণেই আমি নিজেকে ভণ্ড মনে না করে এসব বলতে পারছি।'
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, যশস্বিনী সিংয়ের বাবা বিক্রম সিং উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক। তিনি ফতেহপুর থেকে দুইবার বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিক্রম সিং ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী চন্দ্র প্রকাশের কাছে পরাজিত হলেও, তিনি ফতেহপুরে বিজেপির একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত।