অসম বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এই আবহে বৃহস্পতিবার ৮৮ আসনের প্রথম প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বিজেপি। বাকি আসন দুই সহযোগীকে ছাড়া হবে বলে জানা গেছে। আর প্রত্যাশামতোই এই তালিকায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে তাঁর পুরনো কেন্দ্র জালুকবাড়ি থেকেই ফের প্রার্থী করা হয়েছে। এই আসন থেকে তিনি টানা পাঁচবার জিতেছেন। ২০০১ সাল থেকে তিনি এই কেন্দ্রে জয়ী হয়ে আসছেন।

অসমে বিজেপির প্রকাশিত তালিকায় একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম রয়েছে। এবার দিসপুর কেন্দ্রে বিজেপির টিকিটে লড়বেন প্রদ্যুত বরদলৈ। সম্প্রতি তিনি কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি দু’বারের লোকসভা সাংসদ। রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। এর পাশাপাশি অসম প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ভূপেন বরা সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। তাঁকেও টিকিট দিয়েছে বিজেপি। ভূপেনকে প্রার্থী করা হয়েছে বিহপুরিয়া আসন থেকে। প্রবীণ মন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারিকে প্রার্থী করা হয়েছে টিহু থেকে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অজন্তা নেওগ ফের গোলাঘাট কেন্দ্র থেকেই লড়বেন। এছাড়াও শহুরে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলির মধ্যে নিউ গুয়াহাটি কেন্দ্রে দীপ্লু রঞ্জন শর্মা এবং গুয়াহাটি সেন্ট্রাল কেন্দ্রে বিজয় কুমার গুপ্ত প্রার্থী হয়েছেন। এই প্রার্থী বাছাইয়ে নগরাঞ্চলে নিজেদের দখল আরও মজবুত রাখার কৌশল স্পষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
উপর অসমের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। ডিব্রুগড়, তিনসুকিয়া, ডিগবয়, ডুমডুমা ও মার্ঘেরিটার মতো কেন্দ্রগুলিতে দল প্রার্থী দিয়েছে। মার্ঘেরিটা থেকে ভাস্কর শর্মা, ডিব্রুগড় থেকে প্রশান্ত ফুকন এবং ডিগবয় থেকে সুরেন ফুকনকে প্রার্থী করা হয়েছে। মধ্য ও নিম্ন অসমেরও একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে। রাঙিয়া, নলবাড়ি, বরহমপুর, সমাগুড়ি এবং নগাঁও-সহ বিভিন্ন আসনে দল প্রার্থী দিয়েছে। বরহমপুরে জিতু গোস্বামী এবং নগাঁও-বটদ্রবা কেন্দ্রে রূপক শর্মাকে প্রার্থী করা হয়েছে। তফসিলি জনজাতি ও সংরক্ষিত আসনগুলির ক্ষেত্রেও বিজেপি গুরুত্ব দিয়েছে। বকো-ছয়গাঁও (এসটি), তামুলপুর (এসটি), ধেমাজি (এসটি), মাজুলি (এসটি), বোকাজান (এসটি) এবং ডিফু (এসটি)-র মতো আসনে প্রার্থী দিয়ে আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাব বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির প্রার্থী তালিকায় যেমন অভিজ্ঞ নেতাদের রাখা হয়েছে, তেমনই জায়গা পেয়েছেন নতুন মুখও। প্রথম প্রার্থী তালিকায় জায়গা পেয়েছেন পীযূষ হাজারিকা, জয়ন্ত মল্ল বড়ুয়া, অশোক সিংহল, এবং রূপেশ গোয়ালার মতো মন্ত্রী। আবার মন্ত্রী নন্দিতা গারসোলা এবার নিজের আসন হাফলং থেকে টিকিট পাননি। অসম বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্যও তাঁর এখনকার আসন (গুয়াহাটি পূর্ব) থেকে টিকিট পাননি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক ভোটব্যাঙ্ককে মজবুত করতেই এই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে গেরুয়া শিবির।