ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার এক মসজিদের কাছের এলাকা। এদিন খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকার কোহাত পুলিশ লাইনের অন্তর্গত এক মসজিদের কাছের এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে বলে খবর। জানা গিয়েছে, মুহূর্তে ৭ জনের মৃত্যুর খবর উঠে এসেছে। ঘটনায় ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের এই খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকা আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত। এই আফগানিস্তানের সঙ্গে বহুদিন ধরেই পাকিস্তানের ডুরান্ড লাইন নিয়ে সংঘাত রয়েছে। তারই মাঝে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর উঠে এল। ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ থেকে সেদেশের রাষ্ট্রপতি জারদারি শোক প্রকাশ করেছেন। সেদেশের প্রধানমন্ত্রী আহতদের তড়িঘড়ি সুশ্রুষার আহ্বান জানিয়েছেন। শেহবাজ শরিফ, ঘটনায় মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি এই বিস্ফোরণের ঘটনার প্রসঙ্গে, ফিতনা-আল-খোয়ারজিকে নির্মূল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
খাইবার পাখতুনখোয়ার ইন্সপেক্টর জেনারেল জুলফিকার হামিদ ‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-কে জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী ‘ওল্ড পুলিশ লাইনস’-এর কাছে বিস্ফোরকবাহী একটি গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। হামিদ আরও জানান যে, পুলিশ ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়েছে এবং এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল।এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন গত এক বছর ধরে পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থার বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের আক্রমণ জোরদার করেছে এবং অস্থির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বালোচিস্তানে ঘনঘন হামলা চালাচ্ছে। যেখানে টিটিপি, পাকিস্তানি রাষ্ট্রকে উৎখাত করে শরিয়া-ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র মতো বেলুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্য লড়াই করছে। এই পরিস্থিতিতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য পাকিস্তানে।