নির্বাচনে হেরেও বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় স্থান হয়েছিল। তবে প্রথমবারের মতো ভোটে জিতেও তারেকের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি। তিনি হলেন বিএনপির অন্যতম পরিচিত সংখ্যালঘু মুখ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। কয়েকদিন আগেই গয়েশ্বরের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছিল, যাতে দেখা গিয়েছিল, মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান থেকে রাগ করে বেরিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এরপরই জল্পনা তৈরি হয়েছিল তাঁকে নিয়ে। তারেকের মন্ত্রিসভা থেকে ব্রাত্য হয়েই কি রেগে গিয়েছিলেন গয়েশ্বর? সেই সব নিয়ে প্রশ্ন ওঠর অবশেষে মুখ খুললেন ঢাকা-৩ আসনের নবনির্বাচিত বিএনপি সাংসদ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, 'মন্ত্রী হব না জেনেই শপথ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আমি আর মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করব না। আমি একজন সংসদ সদস্য ও জনগণের প্রতিনিধি। মন্ত্রী হওয়ার চেয়ে সংসদে জনগণের কথা তুলে ধরা এবং নিয়মের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই আমার মূল লক্ষ্য।' এদিকে ভাইরাল ভিডিয়োতে যে গয়েশ্বরকে রাগতে দেখা গিয়েছিল, তা নিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা, অনুষ্ঠানে একজন কর্মকর্তা না চিনে তাঁকে আসন ছেড়ে চলে যেতে বলেন এবং নিরাপত্তারক্ষীদের ডাকার হুমকি দেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছিলেন তিনি।
ভোটে জেতার পরে তারেকের প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনের মঞ্চে ছিলেন গয়েশ্বর। এর আগেও খালেদা জিয়ার সময়ে গয়েশ্বর মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯১-৯৬ সালে গয়েশ্বর বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি টেকনোক্র্যাট হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সাংসদ হিসেবে এই প্রথম তিনি জয়লাভ করেছেন। এর আগে একাধিকবার ভোটে লড়লেও কোনওবারই জিততে পারেননি গয়েশ্বর। এবার ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জয়ী হয়েছেন। ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামাতে ইসলামির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মহম্মদ শাহিনুর ইসলাম। তিনি ৮২ হাজার ২৩২ ভোট পেয়েছিলেন। অর্থাৎ, প্রায় ১৬ হাজারেরও বেশি ভোটে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জয়ী হয়েছিলেন। এদিকে গয়েশ্বর মন্ত্রী না হলেও তাঁর পুত্রবধুর বাবা নিতাই রায় চৌধুরী মন্ত্রী হয়েছেন তারেকের সরকারে। মাগুরা-২ আসন থেকে বিএনপির টিকিটে লড়াই করে জয়ী হলেন নিতাই রায় চৌধুরী। জামাত প্রার্থীকে তিনি ৩১ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন।