বাংলাদেশে ফের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। কুষ্টিয়ায় বাউল সাধক ফকির লালন শাহের মাজার প্রাঙ্গণ থেকে উদ্ধার হল বোমা। সোমবার গভীর রাতে কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে এই বিস্ফোরক উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মাজার চত্বরের একটি জলের ট্যাঙ্কের কাছে বোমাটি রাখা ছিল। পরে বিশেষজ্ঞদের একটি দল সেটিকে নিষ্ক্রিয় করে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কারও গ্রেপ্তারির খবর নেই। কে বা কারা সেখানে বিস্ফোরক রেখেছিল, কী উদ্দেশ্যে তা রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রাতের অন্ধকারে উদ্ধার বিস্ফোরক

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, সোমবার রাত প্রায় ২টো নাগাদ মাজার চত্বরের একটি জলের ট্যাঙ্কের কাছে বোমাটি উদ্ধার হয়। পরে সকাল ৮টা নাগাদ সেটিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া বস্তুটি একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)। বোমা নিষ্ক্রিয় করার কাজে বিশেষজ্ঞদের দল মোতায়েন করা হয়েছিল। তাঁদের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাজারের প্রবেশপথের কাছেও সন্দেহজনক একটি ব্যাগের সন্ধান পাওয়া যায়। সেটির ভিতরে পেট্রলভর্তি দুটি বোতল, দুটি লোহার পাইপ এবং বিদ্যুতের তার যুক্ত একটি যন্ত্র ছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। মাজারে আসা সাধু ও ভক্তদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাঁদের বিপজ্জনক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দলের চার সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
লালনের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ঘিরে উদ্বেগ
এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন লালন শাহের ১৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাজারে তিন দিনের অনুষ্ঠান চলছে। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থীরা যোগ দিয়েছেন। লোকজ মেলা, আলোচনা এবং সংগীতানুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।
{{/usCountry}}এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন লালন শাহের ১৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাজারে তিন দিনের অনুষ্ঠান চলছে। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থীরা যোগ দিয়েছেন। লোকজ মেলা, আলোচনা এবং সংগীতানুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।
{{/usCountry}}রবিবার বিকেলে পূর্ণসেবা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মূল জমায়েত শেষ হলেও সোমবার পর্যন্ত মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলার কথা ছিল। ফলে মাজার চত্বরে মানুষের যাতায়াত ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
কারা রাখল বোমা, তদন্তে পুলিশ
কুষ্টিয়া পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিস্ফোরক উদ্ধারের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কী উদ্দেশ্যে বোমাটি রাখা হয়েছিল, তা এখনও জানা যায়নি। কোনও সংগঠন বা ব্যক্তির দিকে অভিযোগের আঙুলও তোলেনি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থানে নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সেই আবহে লালন শাহের মাজার থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এই ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তের ফল প্রকাশ্যে এলে তবেই ঘটনার নেপথ্যের কারণ জানা সম্ভব হবে। আপাতত মাজারের নিরাপত্তা এবং অনুষ্ঠান ঘিরে শান্তি বজায় রাখাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।